ভারতে কারান্তরিণ জাকির হোসেনের আগের ছবি (বামে), বর্তমান ছবি (ডানে)।
পাঁচবছর আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন মানসিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মিলেনি তার সন্ধান। চলতি বছরের শুরুতে ভারতের শিলচরের একটি মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে খোঁজ মিলে জাকিরের। সংস্থাটি জানায় জাকির শিলচর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। অনুপ্রবেশের দায়ে সে কারান্তরিণ। এরপর সংস্থাটির চেষ্টায় আসামের গোয়াহাটিস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন থেকে ব্যবস্থা করা হয় ট্রাভেলপাসের।
কিন্তু ট্রাভেলপাস মিললেও দেশে ফেরা হয়নি জাকিরের। বিএসএফ’র চিঠির জবাবে বিজিবি জানিয়েছে এখনই জাকিরকে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। জাকিরের প্রত্যাবর্তনের জন্য সময় চেয়েছে বিজিবি। প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনী প্রক্রিয়া শেষে এ ব্যাপারে বিএসএফ এর কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন।
ভারতে কারান্তরিণ জাকির হোসেন সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের আবদুল মন্নানের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারি সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর তার আর সন্ধান পায়নি পরিবার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচরে বাংলাদেশি এক যুবক আটক আছেন বলে জানতে পায় সেখানকার একটি মানবাধিকার সংস্থা। তার কাছ থেকে পরিচয় জেনে সংস্থাটি পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। মানসিকভাবে অসুস্থ জাকিরকে কারামুক্ত ও বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগী হয় মানবাধিকার সংস্থাটি। তারা নিজস্ব উদ্যোগে গোয়াহাটিস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে যোাগযোগ করে ৬ মে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করে।
ট্রাভেলপাস পাওয়ার পর জাকিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের লক্ষ্যে ১৭ মে বিএসএফ’র পক্ষ থেকে বিজিবি চিঠি প্রেরণ করে। ওই চিঠিতে ৩১ মে সুতারকান্দি স্থলবন্দর দিয়ে জাকিরকে হস্তান্তর করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে বিএসএফ। কিন্তু ২৯ মে বিজিবির পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে বিএসএফ’র পক্ষ থেকে জানানো হয় অনিবার্য প্রশাসনিক কারণে প্রস্তাবিত তারিখ ও সময়ে বাংলাদেশি নাগরিককে তারা গ্রহণ করতে অপারগ। ৩১ মে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগটি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রহণের নতুন তারিখ জানানো হবে বলে বিএসএফকে জানায় বিজিবি। কিন্তু এরপর আর জাকিরকে ফেরানোর ব্যাপারে বিএসএফ’র সাথে বিজিবি কোন যোগাযোগ করেনি।
এ প্রসঙ্গে বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন জানান, ভারত থেকে কোন বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত আনতে হলে একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যার নাম পাঠায় তার ঠিকানা ও পরিচয় যাচাই করা হয়। পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়। এরপর রিপোর্ট বিজিবি সদরদপ্তরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ট্রাভেল পাস পাওয়ার পরও পরিচয় সনাক্তের প্রয়োজন আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, ট্রাভেল পাস, পাসপোর্ট, ভিসা এসব বিষয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দেখে। এটার সাথে বিজিবির সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশি কোন নাগরিককে ভারত প্রত্যাবাসন করতে চাইলে তার নাম, ঠিকানা ও পরিচয় সনাক্ত করেই ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া



