ছবি: ফাইল ছবি।

সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদ-নদীর বড় অংশ ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি ঢলের উপর নির্ভর। যার ফলে সীমান্তের ওপারে ভারতের উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাব দ্রুত পড়তে শুরু করে। বিশেষ করে সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও অন্যান্য নদীতে উজানের পানির প্রবাহ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

 

শনিবার (২০ জুন) বিকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়।

 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী পাঁচদিন সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলা ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী কয়েকদিন এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি সমতল মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। তবে আগামী পাঁচদিনে এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী তিনদিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুইদিনে বাড়তে পারে, তবে সেটিও বিপৎসীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোর বড় অংশই ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি ঢলনির্ভর। ফলে সীমান্তের ওপারে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তার প্রভাব দ্রুত সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও অন্যান্য নদীতে পড়তে শুরু করে। টানা বৃষ্টিপাতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীতে বাড়তে পারে পানি। আগামী এক সপ্তাহে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানা গেছে। এতে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদি বা বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না।

 

কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নদী দু’টি ভিন্ন পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকা ও হাওরাঞ্চলের কিছু অংশে পানি ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে।

 

অন্যদিকে আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে না পৌঁছালেও আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত এবং উজানের অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। কারণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানিপ্রবাহের বড় অংশই সীমান্তের ওপারের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বৃষ্টি হলে স্থানীয়ভাবে পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া