ছবি: এআই।

সিলেট মহানগরীতে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপারেশন ডেভিল হান্ট-২ চলাকালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়। তবে নির্বাচনকে ঘিরে এবং পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তাদের অনেককে এলাকায় চলাফেরা করতে দেখা গেছে। দিনের বেলায় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজকর্মে অংশ নিলেও রাতে অধিকাংশই বাসার বাইরে অবস্থান করতেন বলেও জানা গেছে।



কিন্তু গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে সিলেট মহানগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের পর থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো সিলেটেও নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কয়েকটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে নগরীর নবাব রোড এলাকায় পিডিবি অফিসের সামনে থেকে মদিনা মার্কেট অভিমুখে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে সিলেট মহানগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সুজেল আহমদ তালুকদার। তাদের নেতৃত্বে মিছিলটি টহলরত পুলিশের গাড়ির পাশ দিয়েও অতিক্রম করে।


মিছিল শেষে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার একটি ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সুজেল আহমদ তালুকদারের বাসায় গিয়ে তাকে খোঁজার ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়।

 

এই ঘটনায় পুলিশ ৭জনকে গ্রেফতার করেছে এবং একটি মামলাও দায়ের করেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল হলেও ওই মামলায় বেশির ভাগ আসামীরাই রয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ও কর্মী। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইব্রাহিম মোস্তফা মাহী, সানিয়াত আহমদ, রেদুয়ান আহমদ রাব্বী, আশরাফুল আহমদ শাহী, সাকির আহমদ ও ফুয়াদ আহমদ। সর্বশেষ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সদস্য সফায়াত খানকে গ্রেফতার করা হয়।


সূত্রে জানা গেছে, সফায়াত খান এর আগেও নগরীর ধোপাদিঘীর পূর্বপাড় এলাকায় ছাত্রলীগের একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ওই মামলায় প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর চলতি বছরের ৩ মার্চ তিনি মুক্তি পান।

 


এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।

তিনি বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ৭জনকে গ্রেফতার করেছে এবং তাদের আদালতেও সৌপর্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া