সিলেটের ধর্মপ্রাণ জনগণ, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর অগণিত ভক্ত-অনুরাগী এবং দরগাহ-সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে প্রথমেই অতি অহংকারী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে দ্রুত ওএসডি করায় সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করছি।
আমি গত সপ্তাহে লিখেছিলাম, ‘শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর পবিত্র দরগাহ শরীফ নিয়ে সরকারকে বিব্রত করার কোনো গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি?’ সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলাম, ‘শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য, খাদেম পরিবারসমূহের মর্যাদা এবং স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে আপনার দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন।’
সিলেটবাসী কৃতজ্ঞ। পরিস্থিতি ডালপালা মেলার আগেই আপনি জেলা প্রশাসককে ওএসডি করে তাঁর ‘ডানা’ কেটে দিয়েছেন এবং দম্ভ চূর্ণ করে দিয়েছেন। মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রাক্কালে এমন তড়িৎ সিদ্ধান্ত ষড়যন্ত্রকারী মহল ও অতি উৎসাহী কর্মকর্তাদের প্রতি সরকারের একটি কঠোর সতর্কবার্তা।
আমি বলেছিলাম, ‘হাজারো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকতে সিলেটের জেলা প্রশাসক হঠাৎ করে দুই দরগাহর হিসাব-নিকাশ নিয়ে কেন এত ব্যস্ত হয়ে উঠলেন, তা বোধগম্য নয়। শান্তিপ্রিয় সিলেটকে উত্তেজিত করার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। বিষয়টি সরকারের জন্য একটি চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।’
সরকারের এই তড়িৎ সিদ্ধান্তে মাজারবিরোধী তথা সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মহল পরাস্ত হয়েছে বলে অনেকের ধারণা।
২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলমকে আমি চিনি ২০১৫ সাল থেকে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর ভেজালবিরোধী ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় তিনি প্রায় ছয় বছর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ঢাকায় একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তখন একাধিক অভিযানে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক হিসেবে সিলেটে পদায়নের আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ছিলেন।
সাদাপাথর লুট নিয়ে যখন সিলেটে তোলপাড় চলছিল, তখনকার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট সারওয়ার আলম সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর যোগদানে সিলেটবাসীর মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছিল। ভেজালবিরোধী অভিযানখ্যাত সারওয়ার আলমকে সে সময় আমিও অভিনন্দন জানিয়েছিলাম।
কিন্তু সরকার ও জনগণের হাজারো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকতে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবে পরিচালিত হতে শুরু করেন। যার পরিণতি দাঁড়ায় হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অতি বাড়াবাড়ি। শেষ পর্যন্ত এসব কর্মকাণ্ডের একদিনের মাথায়, ২১ জুন ২০২৬, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই তাঁকে ওএসডি হতে হলো। এই ১০ মাসে তিনি সিলেটবাসীর উচ্ছ্বাসকে কতটুকু সম্মান করেছেন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কী কী কাজ করেছেন, তার বিচার-বিশ্লেষণ জনগণই করবেন।
আমরা দেখেছি, সাদাপাথর লুটের ঘটনায় দুদক তদন্ত করে তৎকালীন ডিসি, এসপি, প্রভাবশালী রাজনীতিকসহ অনেকের নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসক তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। অনেকের মতে, হম্বিতম্বি দেখিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনই ছিল তাঁর প্রধান কাজ।
শুধু জেলা প্রশাসনের অবহেলার কারণেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট অংশের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ফলে সিলেটবাসীর দুর্ভোগ ও দুর্দশা যেন তাদের নিয়তির অংশ হয়ে গেছে। থমকে আছে সিলেট-সুতারকান্দি চার লেন প্রকল্পের কাজও। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখার দুর্নীতি, অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগের প্রসঙ্গে না-ই গেলাম। জেলা প্রশাসকের ‘অতি পাণ্ডিত্য’র কারণে অনেক উন্নয়নকাজ স্থবির হয়ে আছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সে আলোচনা আরেকদিন করব।
কিন্তু একটি গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র যখন চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের মধ্যে একটি নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকার যখন স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি সিলেট তথা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার এবং অতি স্পর্শকাতর ‘অনুদানবাক্স’ ইস্যুতে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেন।
হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)—দুজনই বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের অত্যন্ত সম্মানিত সুফি সাধক। জনমানসে তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও মাজারের পরিবেশ সম্পর্কে নানা প্রচলিত ধারণা রয়েছে। হযরত শাহজালাল (রহ.) অত্যন্ত শান্ত, কোমল ও বিনয়ী স্বভাবের ছিলেন বলে লোকমুখে প্রচলিত। তাঁর মাজারের পরিবেশ সবসময় গভীর শান্তি, গাম্ভীর্য ও আত্মিক প্রশান্তিতে ভরপুর থাকে।
অন্যদিকে হযরত শাহপরান (রহ.), যিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ভাগ্নে ছিলেন বলে পরিচিত, তাঁর আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত দৃঢ় ও প্রখর—এমন বিশ্বাস ভক্তদের মধ্যে প্রচলিত। নানা অলৌকিক ও অতিপ্রাকৃত ঘটনার কাহিনি ঘিরে তাঁর মাজারের পরিবেশকে অনেক ভক্ত প্রভাবশালী ও রহস্যময় বলে মনে করেন। নায়ক রহমানের পা হারানোর ঘটনাটিও এখনও লোকমুখে প্রচারিত হয়।
অহংকার মানুষকে অন্ধ ও বাস্তবতাবিমুখ করে তোলে। সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, সারওয়ার আলমের মধ্যে চরম অহংকার ও দম্ভের বহিঃপ্রকাশ ছিল লক্ষণীয়। তিনি নিজেকে সবসময় অন্যদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক জ্ঞানী বলে মনে করতেন। অনেকটা কর্তৃত্বপরায়ণ ভঙ্গিতে ক্ষমতার প্রয়োগ করতে চাইতেন।
নতুন সরকারের তখনও ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ হয়নি। তার ওপর বিরোধী পক্ষের অব্যাহত চাপ, হুমকি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বিদ্যমান। এমন একটি পরিস্থিতিতে তিনি কার পরামর্শে এত স্পর্শকাতর বিষয়ে এতটা আক্রমণাত্মক ভূমিকা গ্রহণ করলেন, সেই প্রশ্ন জনমনে থাকতেই পারে।
হঠাৎ করেই তিনি নিজের কার্যালয়ে দুই মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি বৈঠক আহ্বান করেন। ওই বৈঠকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মাজারবিরোধী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন রাজনীতিক, বিশিষ্ট সুধীজন এবং খাদেমদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে তিনি একতরফাভাবে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন—‘মাজার পরিচালনা ও হিসাব-নিকাশ জেলা প্রশাসন দেখবে।’
বৈঠকে উপস্থিত তাঁর সমর্থকরা সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়ে বাহবা দেন। অনেকের কাছে বিষয়টি গায়ের জোরে সম্মতি আদায়ের প্রচেষ্টা বলেই মনে হয়েছে। পরে তিনি নিজে মাজার পরিদর্শন করে অনেকের ভাষায় ‘সামরিক শাসকের’ মতো দৃঢ় অবস্থানের বার্তা দেন।
এরপর একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও আনসার সদস্যদের মাধ্যমে প্রকাণ্ড আকারের একাধিক দানবাক্স তৈরি করে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘মাজারের ডেগ’ সিলগালা করে দেওয়া হয়।
তবে কেউ কেউ মত দিয়েছিলেন, জেলা প্রশাসক চাইলে ক্ষমতার জোরে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু সে ধরনের মতামত তেমন গুরুত্ব পায়নি।
পরদিন শুক্রবার তিনি হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারে যান। সেখানে বক্তব্য দিয়ে একইভাবে সবকিছু প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু এর পরদিনই পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। রোববার তিনি ওএসডি হওয়ার আদেশ পান।
সাড়ে সাতশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত হয়ে আসা এই দুই স্পর্শকাতর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো মহল নিজস্ব স্বার্থে বিতর্ক সৃষ্টি করতেই পারে। কিন্তু প্রশাসন, বিশেষ করে একজন জেলা প্রশাসকের এভাবে ‘অতি উৎসাহী’ হয়ে ওঠা কতটা যুক্তিযুক্ত—সে প্রশ্নও উঠে এসেছে।
সিলেটের দুইজন প্রভাবশালী মন্ত্রী রয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাঁদের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য জনসম্মুখে দেখা যায়নি। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীকেও অনেকের মতে বিব্রত অবস্থায় দেখা গেছে।
এত স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গণআলোচনা, মতবিনিময় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দীর্ঘ ১০ বছর সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। তাঁকে পাশ কাটিয়ে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে।
একইভাবে সিলেট শহরের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো—সেই প্রশ্নও উঠেছে। বিষয়টি জানতেন না প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও। জেলা প্রশাসকের এত খুঁটির জোর কোথায় ছিল? সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সিলেটে অস্থিরতা সৃষ্টির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি কার পরামর্শে বা কার সঙ্গে সমন্বয় করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—এসব বিষয় জনসম্মুখে স্পষ্ট করা সিলেটের সরকারদলীয় নেতাদের দায়িত্ব বলে অনেকে মনে করেন।
এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব না এলে ভবিষ্যতেও সরকারকে এ ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
জেলা প্রশাসকের এমন একগুঁয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। অনেকেই বিষয়টির গভীরতায় না গিয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে বাহবা দিয়েছেন। তবে উদ্বেগের মাত্রাই ছিল বেশি। অনেকেই তাঁর সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। আবার অনেকে ডিসি সাহেবের গত ১০ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এলআর ফান্ডের টাকার হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
আমি সেদিকে যেতে চাই না। তবে দুই পবিত্র দরগাহ শরীফের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ, ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা এবং জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে দানবাক্স স্থাপনকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তার ক্ষত ভবিষ্যতে নানা উপায়ে ষড়যন্ত্রকারী মহল কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের এই স্থানকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টাও চলতে পারে।
ভক্ত-অনুরাগীদের অনেকেই মনে করেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য, খাদেম পরিবারসমূহের মর্যাদা এবং স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি। যার ফলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং তা সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে গভীর কষ্টের জন্ম দিয়েছিল।
জনগণ মনে করে, ক্ষমতা মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের বিশ্বাস ও অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য নয়। দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ যদি জনগণের আবেগ, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করেন, তাহলে তাঁর জবাবদিহিতা থাকা উচিত।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সিলেটবাসীর অনেকেই এটিকে জনমতের প্রতি সরকারের শ্রদ্ধাশীল অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তাঁদের বিশ্বাস, দায়িত্বশীল পদে থেকে অহংকার, একতরফা সিদ্ধান্ত এবং জনগণের অনুভূতিকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
সিলেটবাসী আশা করেন, ভবিষ্যতে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর পবিত্র দরগাহ শরীফের ঐতিহ্য, মর্যাদা এবং ধর্মীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
একই সঙ্গে তাঁদের বিশ্বাস, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড যেন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দুটিকে বিতর্কিত বা অস্থিতিশীল করার কারণ না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান এবং জনগণের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে সিলেটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।
সিলেটের শান্তি, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ থাকুক।
দুলাল আহমদ চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য নিউজ ডিপ্লোমেটস
২১ জুন ২০২৬



