কিশোরীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে উঠেছে।
এ ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নগরপাড়া গ্রামের শাহীনের ছেলে ফেরদৌস আলম হামিম (১৯), মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার গজারকান্দি এলাকার ফারুখ সরকার লিটনের ছেলে মো. হোসেন শাওন তাজ সরকার বাবু (২০) এবং মুন্সীগঞ্জ শহরের মালপাড়া এলাকার মৃত গবিন্দ মুখার্জীর ছেলে সুধাংশ মুখার্জী (৪৬)।
তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বাসিন্দা ফেরদৌস আলম হামিমের ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুযোগে হামিম ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও ব্ল্যাকমেইল করে টাকা দাবি করতে থাকে।
টাকা জোগাড় করতে না পেরে কিশোরী পরিবারের গচ্ছিত স্বর্ণালংকার বিক্রি করে হামিমকে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠায়।
পরে আরও অর্থের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে সে পুনরায় স্বর্ণ বিক্রির উদ্যোগ নেয়। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হওয়া মো. হোসেন শাওন তাজ তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে নামমাত্র মূল্য পরিশোধ করেন। পরে তিনি এসব স্বর্ণ মুন্সীগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুধাংশ মুখার্জীর কাছে বিক্রি করেন বলে তদন্তে জানা যায়।
এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল অভিযান চালায়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ২২ জুন বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার খালইস্ট এলাকা থেকে শাওন তাজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুধাংশ মুখার্জীকে তার দোকান থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত স্বর্ণ গলিয়ে অন্যত্র বিক্রি করেছেন বলে জানান।
পরবর্তীতে একই দিন রাত ১১টার দিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানা এলাকা থেকে মামলার মূল অভিযুক্ত হামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ হামিমের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করে। এসব ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১০



