হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের সোয়াবই গ্রামের নিখোঁজ মাদক ব্যবসায়ী ফুয়াদ হাসান সাকিবকে জীবিত উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।


বুধবার সকালে উপজেলার হরষপুর রেলস্টেশন এলাকায় শত শত গ্রামবাসী এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা সিলেটগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় সাত মিনিট আটকে রাখে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


সাকিবের বাবা সিরাজ আলী ও স্বজনদের অভিযোগ, গত ২১ জুন গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ফুয়াদ হাসান সাকিবকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তারা এ ঘটনার জন্য রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়া ও তার সহযোগীদের দায়ী করছেন।
 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ সাকিব দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসার আড়ালে তিনি মাছের খামার পরিচালনা করতেন এবং আসন্ন ধর্মঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড, দান-অনুদান এবং রাস্তাঘাট সংস্কারে অর্থ ব্যয় করতেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

গ্রামবাসী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা একসময় একই চক্রে চলাফেরা ও ব্যবসা করতেন। তবে প্রায় এক মাস আগে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
 

নিখোঁজের ঘটনায় সাকিবের বাবা সিরাজ আলী বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ধর্মঘর এলাকার মনির, রুবেল, জুয়েল এবং সোয়াবই গ্রামের মাহফুজ মিয়ার ছেলে মামুন, শিমুলসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সাকিবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার জেরে গত সোমবার সকালে  রাজেন্দ্রপুর গ্রামে মাহফুজ মিয়ার পাকা বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সাকিবের স্বজন ও সমর্থকদের একটি অংশ এ হামলা চালায়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

বুধবারের মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সাকিবকে জীবিত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
 

বক্তারা বলেন, নিখোঁজের কয়েকদিন পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “সাকিব নিখোঁজের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-১৩