ছবি: এআই।

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ১২ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের পর জনমনে প্রশ্ন উঠেছে-একই ধরনের উদ্যোগ কি হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারেও নেওয়া হবে? এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘সিলেটের দুই মাজারের বিষয়ই সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাসহ সব আইনি বিষয় পর্যালোচনা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 


শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেট সার্কিট হাউজে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি নেতৃত্বে ১২ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়।

 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি। এসময় হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারেও বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম রয়েছে এবং সেখানে কিছু ভিন্ন রীতি-নীতিও প্রচলিত। শাহজালাল (রহ.) মাজারের জন্য নির্ধারিত নতুন কাঠামো শাহপরাণ (রহ.) মাজারে বাস্তবায়ন করলে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। সিলেটের এই দুই মাজারের বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমরা এগোচ্ছি। শাহপরাণ (রহ.) মাজারের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাসহ সব আইনি বিষয় পর্যালোচনা করেই আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। আজ আমরা হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে বসেছি, তাই আজকের আলোচনার মূল বিষয় ছিল এই মাজারকে কেন্দ্র করেই।’

 

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি। তিনি জানান, নবগঠিত কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যুগোপযোগী, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক কাঠামোর প্রস্তাব তৈরি করবে।

 

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপিকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুজন সদস্য, মাজার মাদরাসা ও মসজিদের দুজন প্রতিনিধি। কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিলেটের জেলা প্রশাসক।

 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘নতুন আর্থিক ব্যবস্থাপনা চালু না হওয়া পর্যন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হবে। সংগৃহীত অর্থ জেলা প্রশাসকের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবেই জমা রাখা হবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অতীতের কোনো বিতর্ক নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। সরকারের মূল লক্ষ্য পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ না থাকে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দরগাহর ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আমরা আশা করছি।’

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন এবং ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।


এ উদ্যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর মধ্যেই গত রবিবার সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরদিন তাঁর নির্দেশনায় সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্স খুলে গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, ৭ আনা স্বর্ণালংকার ও ১০ সৌদি রিয়াল পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় আরও ৫ লাখ টাকা। 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া