ছবি: সংগৃহিত
বিদ্যুতের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সিলেটবাসী, কি শহর কি গ্রাম, অবস্থা অত্যন্ত করুন। সিলেট মহানগর এলাকায় প্রতিদিন প্রতিটি এলাকায় দুই/তিনবারের বেশি বিদ্যুৎ যায়, ফিরে লম্বা সময় পরে। আর গ্রামাঞ্চলের অবস্থাতো আরও খারাপ।
এসবের মধ্যে কেউ কেউ সেই ২০০৪/৫ সালের বা ২০০৯ সালের আগের দিনগুলো আবার ফিরে এলো কি না, সেরকম কথা বলতে শুরু করেছেন।
জুনের এই তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। সঙ্গে বিদ্যুতের যন্ত্রণা। প্রতিদিন ৩৫/৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সিলেটবাসী যখন পুড়ছেন, তখন বিদ্যুতের এমন লুকোচুরিতে দিনে দিনে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। তারা নানাভাবে প্রতিক্রিয় জানাচ্ছেন, বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যগুলোতে।
জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় সিলেট মহানগরীর প্রতিটি এলাকায় লোডশেডিং চলছে। তবে বিদ্যুতের বড় কর্তাদের দাবি, তারা প্রতিটি এলাকায় একবারের জন্য ১ ঘন্টা লোডশেডিং করছেন। অথচ প্রতিদিন প্রতিটি এলাকায় একাধিকবার নয়, বরং বারবার বিদ্যুতের যাতায়াত চলছে।
গ্রামের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোনো কোনো এলাকায় ১২ থেকে ১৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকেনা। আর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তাদের কল দিলে বা ম্যাসেজ দিলেও কেউ কোনো রিপ্লাই দেওয়ার গরজও অনুভব করেনা। প্রতিদিন গ্রাহকরা গণমাধ্যম অফিসগুলোতে কল দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ ঝাড়ছেন।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, পিক আওয়ারে (সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা) সিলেট মহানগর এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ১২০ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ করা হয় ৮০ থেকে ৮২ মেগাওয়াট। ঘাটতি ৪০/৪২ মেগাওয়াট। এটা সমন্বয় করা হচ্ছে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে।
সিলেট মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার এলাকার পূর্ব জিন্দাবাজার বা বারুতখানা এলাকায় প্রতিদিন অনেকবার বিদ্যুৎ যাতায়াত করে। ঘন্টার পর ঘন্টা এমনটা চলতে থাকে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টিকে থাকার বলতে গেলে উপায়ই থাকেনা।
একজন ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ মিয়ার (৩৬) বক্তব্যটা এরকম, চুরর ফুয়াইনতা কারেন্ট লইয়া যেতা শুরু করছইন! কওছাইন, ইলান বাঁচতায় কিলা আর ব্যবসা বাণিজ্যউ করতায় কিলা?
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের সহকারী প্রকৌশলী মো. জারজিসুর রহমান রনি সম্প্রতি সিলেটভিউকে জানিয়েছিলেন, সিলেট মহানগর এলাকায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ ভাগ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
তবে কবে এ অবস্থার অবসান হতে পারে জানতে চাইলে তিনি সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেন নি।
আর এক এলাকায় বারবার এবং একঘন্টার বেশি লোডশেডিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। বলেন, এমনটা হলে বুঝতে হবে অন্য কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা।
তার এমন বক্তব্য নিয়ে চলছে ব্যাঙবিদ্রুপ। নগরবাসীর প্রশ্ন, প্রতিদিনইকি একই এলাকায় ট্যাকনিক্যাল সমস্যা থাকে? আসলে তারা বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা নিতে না পেরে তানানা বকছেন।
এদিকে সিলেটের উপজেলাগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুন। কোনো কোনো উপজেলায় দিনে ১২ থেকে ১৫ ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকেনা।r
বিয়ানীবাজার থেকে হাসিব উদ্দিন নামের একজন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক জানালেন, অবস্থা খুব খারাপ। বিদ্যু মাঝে মাঝে আসছে।
কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, জকিগঞ্জ গোয়াইনঘাট থেকে প্রতিদিন এরকম অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে



