লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। যোগদানকালে জামায়াতের প্রশংসা করে ওই নেতা বলেন, ‘এখন বয়স হয়েছে। বাকি জীবন জামায়াতের সঙ্গে কাটাতে চাই।’
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অফিস কক্ষে জামায়াতের এমপি প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজুল্লাহর উপস্থিতিতে দলীয় সদস্য ফরম পূরণের করে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এ সময় জামায়াত নেতারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
জামায়াতে যোগ দেওয়া আক্তার হোসেন মিলন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি ৩ বার হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নির্বাচন করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকতার হোসেন মিলন ২০১১ সালে হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আপন ভগ্নিপতি সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাছেত হেলালের সঙ্গে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। পরে ২০১৫ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তখনকার জেলা পুলিশ সুপার মিলনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। ওই সময় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে মিলনকে ভোটের মাঠ থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়। তখন সমঝোতার ভিত্তিতে নিজাম উদ্দিনের বড় ভাই মোয়াজ্জেম হোসেনকে হাজিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদ থেকে সরিয়ে আকতার হোসেন মিলনকে সভাপতি ঘোষণা করা হয়।
এরপর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় থাকলেও অল্প কিছুদিন পরেই দলীয় এক চিঠির মাধ্যমে মিলনের সভাপতি পদ কেড়ে নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন তার ভাই মোয়াজ্জেমকে আবারও সভাপতি ঘোষণা করেন।
২০২১ সালে মিলন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও না পেয়ে আবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই সময় তার ব্যানার, ফেস্টুন, মাইক ভেঙে দিয়ে মিলনকে ভোটের মাঠে দাঁড়াতে দেয়নি নিজাম উদ্দিনের লোকজন।
আক্তার হোসেন মিলন বলেন, বর্তমানে আমার বয়স ৬০ বছর। বাকি জীবন জামায়াতের সঙ্গে কাটাতে চাই। এখানে আমার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।
আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাকে সভাপতি পদ দিয়েছে; কিন্তু সেটার সুফল বা সেই ক্ষমতার ব্যবহার আমি করতে পারিনি। আমাকে সভাপতি ঘোষণার কয়েকদিন পরই তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা কাউন্সিলের মাধ্যমে তৎকালীন উপজেলা সভাপতি নিজাম উদ্দিনের ভাই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সভাপতি করেন।
যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে কমলনগর উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা হুমায়ুন কবির বলেন, আক্তার হোসেন মিলন জামায়াতের নীতি আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের দলে যোগদান করেছেন। জামায়াতে ইসলামী তা সাদরে গ্রহণ করেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ




