ছবি: সংগৃহিত

প্রশাসন অভিযান চালায়, অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে আটক হয় নারী-পুরুষ, সিলগালা করা হয় আবাসিক হোটেল। কিন্তু বন্ধ হয়না অনৈতিক কাজ।

 


বিশেষ করে, আবাসিক হোটেলে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোকে সামাল দেওয়া দিনে দিনে আরও কঠিন  হয়ে পড়ছে।

 

সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে সিলেট মহানগরীতে অন্তত এমন দুটি আবাসিক হোটেল সিলগালা করা হয়েছে যা আগেও সিলগালা করা হয়েছিল।

 

শনিবার  (১১ জুলাই) সিলেটের জিন্দাবাজার পয়েন্ট সংলগ্ন উবাহাটা রেস্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারী ও তিন পুরুষকে আটক করে সিলেট মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

 

আটককৃতরা হলেন, নূর হোসেন (৩০), আবুল কাশেম (৩০), আরিফ খান (২০) ও কাকলী দাস (২৭)।

 

এই হোটেলটিকে বছরখানেক আগে অনৈতিক কাজের প্রমাণ পাওয়ায় সিলগালা করেছিল প্রশাসন তখন এর নাম ছিল হোটেল রাজমনি। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবারও তারা নতুন ডকুমেন্ট তৈরি করে ছদ্মনামে একই ব্যবসা শুরু করে।

 

জানা গেছে, উবাহাটার মতো সিলগালা করা অনেক আবাসিক হোটেল কিছুদিন পর নতুন নামে আবার চালু হচ্ছে। মালিকপক্ষ কাগজপত্রে মালিকানা পরিবর্তন, নাম বদল কিংবা সংস্কারের নাটক সাজিয়ে একই স্থানে  আবারও আবাসিক হোটেল ব্যবসা শুরু করছে। ফলে আগের মতোই সেখানে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছে।

 

জিন্দাবাজারের রাজমনি ছাড়াও নগরীর তালতলায় অবস্থিত ‘হোটেল বিলাশ’ আরেকটি উদাহরণ। গত বছর অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে হোটেলটি সিলগালা করেছিল। তবে কিছুদিন পর একই স্থানে ‘হোটেল রাজু’ নামে নতুন পরিচয়ে পুনরায় হোটেল ব্যবসা শুরু করে সেই পুরানো কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ আছে, এখনো এই হোটেলে অনৈতিক কাজ চলে।

 

এছাড়াও একই এলাকার রহমানিয়া বোর্ডিংয়েও অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কাজের অভিযোগে সম্প্রতি সিলগালা করা হয়েছে। জানা গেছে, আগেও একবার এই আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করা হয়েছিল।

 

এ জাতীয় ব্যবসায়ীদের নির্মুল প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, সিলগালা করা হোটেলগুলোর সঙ্গে জড়িতরা অনেক সময় আর এ জাতীয় কাজে জড়িত না থাকার অঙ্গীকার করে এবং সিটি কর্পোরেশনের  নতুন অনুমোদন নিয়ে তারা ব্যবসা শুরু করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়লে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

বিল্ডিং মালিক ও ভূমি মালিকদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্তসাপেক্ষে তারা জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে