ছবি: এআই।

সারা দেশে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আসলেও সিলেটে কমছে না ভয়াবহতা। ঢাকার পর সিলেট বিভাগেই সবচেয়ে বেশি হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিনই হামে শিশু মৃত্যু দেখছে সিলেট। হাসপাতালে এখন ভর্তি আছে আড়াইশতাধিক শিশু। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন বলছেন, অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে টিকার লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হয়নি। যে কারণে সিলেটে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

 


স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, সারা দেশে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে প্রায় সাড়ে ৭শ’ শিশু। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরেই রয়েছে সিলেট বিভাগের অবস্থান। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল পর্যন্ত সিলেটে মারা গেছেন  ৯৫ জন। বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায়ই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

 

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন ২৫৩ জন। এর মধ্যে গেল ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হন ৫৪ জন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৯ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৫ জন ভর্তি হয়েছেন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ১৯ মে সিলেট বিভাগে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হয়। কিন্তুসেই লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ পূরণ হয়নি। অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিশু টিকার আওতার বাহিরে থেকে যান। টিকাবঞ্চিত শিশুরাই এখন বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এদিকে, টিকাগ্রহণের একমাসের মধ্যে শিশুদের শরীরে ‘অ্যান্টিবডি’ তৈরির কথা থাকলেও অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। টিকা নেওয়ার পরও তারা আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের
‘ভ্যারিয়েন্ট’ পরিবর্তন হওয়ায় এরকম ঘটনা ঘটছে।

 

সূত্র আরও জানায়, সিলেটে ল্যাব না থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সকল শিশুর নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। যাদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে ২০-২৫ ভাগ শিশুর হাম সনাক্ত হচ্ছে। কোন শিশুর জ্বর ও র‌্যাশ ওঠলে হামের উপসর্গ বিবেচনায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে ওই শিশু হয়তো হামে নয় নিউমোনিয়াসহ অন্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্যবিভাগের এক চিকিৎসক জানান, টিকার পরও শিশু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ধারণা করা হচ্ছে হামের ভাইরাস ধরণ পাল্টেছে। ফলে টিকা থেকে শতভাগ সুফল মিলছে না। এখন হামের ধরণ ও টিকা নিয়ে নতুন করে গবেষণা প্রয়োজন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম জানান, সিলেটের চা বাগান ও সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত এলাকার অনেক শিশু টিকা নেয়নি। কুসংস্কারের কারণে অভিভাবকরা তাদের শিশুদের হামের টিকা দেননি। ফলে এ দুই জেলায় সংক্রমণ বেশি।

 

হামের টিকার ক্যাম্পেইনের পর সুফল মিলেছে দাবি করে তিনি জানান, যারা আক্রান্ত হচ্ছে তাদের ৯৫ ভাগই টিকার আওতার বাহিরে ছিল। প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় অসুস্থতা জটিল হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, শুরুতে হামের যে তীব্রতা ছিল তা এখন কিছুটা কমে আসবে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণে আসতে কতদিন লাগবে তা বোঝা যাচ্ছে না। সাধারণত এরকম ভাইরাসজনিত প্রকোপ ৬ মাস থাকে। হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা আরও প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ