ছবি: সিলেট ভিউ।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আনুমানিক বেলা ১২টা থেকে দিনব্যাপী পৃথক অভিযান দিয়ে এই জরিমানা প্রদান করা হয়।

 


জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হল- মৌলভীবাজারের জসিম এন্টারপ্রাইজের মালিক জসিমকে ৫ হাজার টাকা। সানজার ফার্মার মালিক কাজী আব্দুল হান্নানকে ৩ হাজার টাকা এবং মেসার্স বিজয় স্টোর-এর মালিক বিজয় করকে ১৫ হাজার টাকা। সর্বমোট ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সময়ের ভেতরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নকল পণ্য বিক্রয় এবং বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মেসার্স মাহদী ট্রেডার্সের মালিককে ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স কলি ষ্টোরের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানাসহ সর্বমোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

র‌্যাব জানায়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মানুষের জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাত করা, পণ্য সরবরাহ বা বিক্রয়ের সময় প্রতিশ্রুত পরিমাণের চেয়ে কম দেওয়া এবং পণ্যের মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন না করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এসব বিধান অমান্য করে আসছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।

 

এ ধরনের অপরাধ দমনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে র‌্যাব-৯ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আনুমানিক দুপুর ১২টায় র‌্যাব-৯, সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজারের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন পৌরসভা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ এবং নকল পণ্য রাখার অপরাধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৮, ৪৫ ও ৫১ ধারায় নিম্নোক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

 

একই দিন পৃথক র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল অদ্য মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন রানীগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে নকল পণ্য বিক্রয়, ভোক্তাদের প্রতারণা এবং বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫, ৪৬ ও ৫১ ধারার বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘এছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযানের পাশাপাশি জনস্বার্থে এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

 

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০১