ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স ও এআই।

সিলেটে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ব্যাপক কদর রয়েছে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোতে। স্বাদ ও মানের কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বাড়তি দামেও সিলেটে উৎপাদিত নানা জাতের সবজি ও ফল কিনেন। সিলেট থেকে এসব কৃষিপণ্য রফতানিরও রয়েছে সুযোগ। রফতানির জন্য ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মাণ করা হয়েছে কার্গো কমপ্লেক্স। কিন্তু একটিমাত্র প্যাকিং হাউসের অভাবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুরস্থ প্যাকিং হাউসের মাধ্যমে রফতানি করতে গিয়ে বেড়ে যায় সময় ও অর্থ ব্যয়। যে কারণে অনেকেই বাদ দিয়েছেন কৃষিপণ্য রফতানি। 

 


ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলেটে প্যাকিং হাউস নির্মিত হলে বছর থেকে এ অঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য রফতানি সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। সিলেট থেকে একসময় যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নানা জাতের কৃষিপণ্য রফতানি হত। বিশেষ করে এই অঞ্চলে উৎপাদিত সাইট্রাস জাতীয় ফল, সবজি ও বিভিন্ন ধরণের কৃষিজ পণ্যের বাজার রয়েছে বর্হিবিশ্বে। সিলেটের প্রবাসীরাই হচ্ছেন এসব পণ্যের মূল ক্রেতা। রফতানির এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় অত্যাধুনিক কার্গো কমপ্লেক্স। কিন্তু ‘প্যাকিং হাউস’ না থাকায় সিলেট থেকে কোন কৃষিজ পণ্য রফতানি সম্ভব হচ্ছে না। প্যাকিং হাউসে আটকে যায় রফতানি সম্ভাবনা।

 


ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেটের ‘গোয়ালগাদ্দা সীম’, নাগা মরিচ, খাসিয়া পান, তইকর, ডেফল, ফরাশ ও সীমের বিচি, ঢাকাদক্ষিণের লালমাটির কচুমূখী ও লতি, জারা লেবু, আদালেবু, সাতকরা, কমলা, মাল্টা, আসারস, তরমুজ ও লুকলুকির প্রচুর চাহিদা রয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভ‚ক্ত দেশগুলোতে। সিলেটি প্রবাসী ছাড়াও বাঙালিদের মধ্যে এসব ফল ও সবজির চাহিদা বেশি। বাঙালি অধ্যূষিত সুপারশপগুলোতেও এসব পণ্যেও ব্যবসা ভাল। কিন্তু সিলেট থেকে সুযোগ না থাকায় বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ঢাকা থেকে এসব পণ্য রফতানি করছেন। 

 

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, একসময় বাংলাদেশ বিমানের সিলেট-লন্ডন ফ্লাইটে এসব কৃষিপণ্য রফতানি হতো। পরে যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো হতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে। কিন্তু প্রায় দুইদশক আগে সাইট্রাস জাতীয় ফলে ‘ক্যাংকার্স’ নামক ভাইরাস ধরা পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় রফতানি। এরপর থেকে শ্যামপুরের প্যাকিং হাউসের মাধ্যমে মাননিয়ন্ত্রণ ও প্যাকিং করে সিলেটে উৎপাদিত কৃষিপণ্য পাঠাতে হচ্ছে। এতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এ অঞ্চলের রফতানিকারকরা। বর্তমানে সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু থাকলেও শুধুমাত্র প্যাকিং হাউস না থাকায় পণ্য রফতানি সম্ভব হচ্ছে না।

 

এ প্রসঙ্গে জালালাবাদ ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্ট গ্রুপের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে মাননিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্যাকিং করে কৃষিপণ্য রফতানি করতে হয়। এরপর পণ্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রেখে রফতানি করা হয়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুরের প্যাকিং হাউসের মাধ্যমে রফতানি করতে গিয়ে সিলেটের ব্যবসায়ীদের সময় ও খরচ বেড়ে যায়। সিলেটে প্যাকিং হাউস হলে বছরের অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য রফতানি করা সম্ভব হবে।

 

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল জব্বার জলিল জানান, সিলেটের ব্যবসায়ীরা নিজ খরচে প্যাকিং হাউস স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সরকার তা আমলে নেয়নি। অথচ প্যাকিং হাউসটি নির্মাণ করা গেলে সিলেট থেকে রফতানির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হতো।

 

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানান, ওসমানী বিমানবন্দরের পাশে একটি প্যাকিং হাউস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা পেলেই প্যাকিং হাউস স্থাপনের কাজ শুরু হবে। সিলেট থেকে রফতানি শুরু হলে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানান, প্যাকিং হাউস ছাড়া ওসমানী বিমানবন্দর দিয়ে কৃষিজপণ্য রফতানির সকল সুবিধা রয়েছে। এটা স্থাপন করা গেলে সিলেট থেকে অনেক ধরণের কৃষিপণ্য রফতানি সম্ভব হবে। এতে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে বসবাসকারী বাঙালিদের সাথে সিলেটের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ/ এহিয়া-১৩