ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া, এর বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে সিলেটে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের সদর দপ্তরে আয়োজিত এ কর্মশালায় সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের অধীন সব সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কর্মশালায় ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়ম-কানুন, প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন দিক, রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য জটিলতা এবং তা নিরসনের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ভ্যাট আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিল শেখার আগ্রহ ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ। পুরো আয়োজনের পরিবেশ ছিল আন্তরিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের উপযোগী। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা নিয়ে প্রশিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
কর্মশালাটি সমন্বয় করেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের অতিরিক্ত কমিশনার মীর আবদুল্লাহ আল সাদাত। সমন্বয় কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন ডিসি জনাব হান্নান ও এসি জনাব মাহিন।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ছাতক সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তা জনাব আজিজ, জনাব কাজী আল আমিন, জনাব মাহবুব-ই-খুদা এবং সদর দপ্তরের রাজস্ব কর্মকর্তা জনাব সামসেদ।
প্রশিক্ষকরা ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিভিন্ন ধাপ, সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান, করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং কর্মকর্তাদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাগত দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শুধু আইন ও বিধিমালা সম্পর্কে তাত্ত্বিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়; মাঠপর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে কর্মকর্তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান এবং একই ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেটের কমিশনার খন্দকার নাজমুল হক বলেন, কর্মকর্তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিষয়ে কর্মকর্তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা যত বাড়বে, ততই ভ্যাট আইন ও বিধিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন সহজ হবে।
তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধির মাধ্যমে ভ্যাট ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা কর্মকর্তাদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট আইন ও বিধিমালার সঠিক প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
কমিশনার আরও বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মশালা ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ভ্যাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনকেও এসব কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়বে এবং ভ্যাট রিটার্ন দাখিলসহ সামগ্রিক ভ্যাট ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি এ ধরনের কর্মশালা করদাতাদের সেবা প্রদানের মান উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর ফলে ভ্যাট আইন ও বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমেও আরও গতি আসবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১৮




