ছবি: এআই।
সিলেট জেলার একটি উপজেলায় রেলপথ নির্মাণের জন্য স্থান যাচাই-বাছাইয়ে সিলেট সফর করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি দল। শনিবার (১ আগস্ট) শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি প্রস্তাবিত সিলেট-জাফলং রেলপথ নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে।
জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের প্রতিনিধি দল সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকা পরিদর্শন করেন। এর আগে দুপুরে আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে সিলেটে পৌঁছান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক। সিলেটে পৌঁছানোর পর তাঁরা সড়কপথে জাফলংয়ের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে গিয়ে সিলেট-জাফলং রুটে রেলপথ চালু হওয়ার প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
এদিন ঢাকা থেকে সিলেট আসার পথে সকাল ১১টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল স্টেশনে রেলওয়ে অবকাঠামো ও সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তারা। এরপর কমলগঞ্জের ভানুগাছ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির সময় মন্ত্রী ও সঙ্গে থাকা কর্মকর্তারা ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের সঙ্গে কথাও বলেন। এ সময় স্থানীয়রা রেলসেবার নানা সীমাবদ্ধতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক এবং প্রস্তাবিত রেলপথ প্রকল্পকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেললাইন মহাসড়কের কাছাকাছি দিয়ে নির্মাণ করা হলে প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সারি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কথা উল্লেখ করে বলেন, পৃথক দুটি সেতু নির্মাণের পরিবর্তে একটি সমন্বিত সেতু করা যেতে পারে, যেখানে নিচতলায় রেলপথ এবং ওপর দিয়ে সড়ক চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে।’
তিনি আরও জানান, ‘উপদেষ্টা কমিটি, জেলা প্রশাসক, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক অবকাঠামো বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, রেললাইন নির্মাণের সময় স্থানীয় বাজারগুলোকে বাইপাস করা হবে। এর ফলে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভাঙার প্রয়োজন হবে না এবং জনদুর্ভোগও কমবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সফরের পথে বিভিন্ন রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতির সময় যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল আগামী এক মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে রেলওয়ে ও সড়ক বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ সমন্বয়ের অভাবে দুটি প্রকল্প ভিন্ন পথে এগিয়ে যেতে পারে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, এর আগে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের ফল উৎসবে এসে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেছিলেন, ‘সিলেট থেকে জাফলং পর্যন্ত রেলপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হবে বলে জানান তিনি।’
এসময় তিনি আরও বলেছিলেন, ‘সিলেট-জাফলং রুটে রেলপথ চালু হলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমার পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াতও সহজ হবে। বিশেষত জাফলং এলাকার পাথর ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৭




