ছবি: সিলেট ভিউ।

সাড়ে ২৬ বর্গকিলোমিটারের সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়তন এখন সাড়ে ৭৯ কিলোমিটার। বেড়েছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। বর্ধিত নগরে যুক্ত হয়েছে সিলেট সদর ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন। নগরের অন্তর্ভূক্ত হওয়া নিয়ে শুরুতে বর্ধিত এলাকার মানুষ ছিলেন উচ্ছ্বসিত। স্বপ্ন ছিল আধুনিক নগরায়নের। কিন্তু সিসিকের আওতাভূক্ত হওয়ার ৫ বছর হয়ে গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বর্ধিত নগর এলাকায়। 

 


উল্টো বেড়েছে দুর্ভোগ। নাগরিক সুবিধা না বাড়লেও গুনতে হচ্ছে বর্ধিত ট্যাক্স। আগে জেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ এসব এলাকার উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করলেও সিসিকের আওতাভূক্ত হওয়ার পর থমকে গেছে সকল কর্মকাণ্ড। তবে, সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ধিত নগরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়েই চলছে কাজ। সড়ক প্রশস্ত ও ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে কিছুটা প্রতিবন্ধকতায়ও পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

 

সিসিক সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ২৬ জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় সিলেট সিটি করপোরেশন সম্প্রসারণ প্রস্তাব অনুমোদন হয়। একই বছরের ৩১ আগস্ট সিসিকের এলাকা সম্প্রসারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই গেজেটের মাধ্যমে সিসিকের আয়তন বৃদ্ধি পায় ৫৩ বর্গকিলোমিটার। 

 

সিসিকের পুরনো আয়তনের সাথে যুক্ত হয় সদর উপজেলার পুরো টুলটিকর ইউনিয়ন এবং টুকেরবাজার ও খাদিমনগরের  একাংশ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরো কুচাই ইউনিয়ন এবং বরইকান্দি, তেতলি ও সিলাম ইউনিয়নের একাংশ। নতুন এলাকা যুক্ত হওয়ার পর ২৭ থেকে ৪২ ওয়ার্ডে উন্নিত হয় সিসিক। কিন্তু নগরের আওতায় আসলেও বর্ধিত এই ১৫ ওয়ার্ডের মানুষ এখনো নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত। সিসিকের আওতায় আসার পরই বেড়ে গেছে ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ সব ধরণের কর। 

 

বন্ধ হয়ে গেছে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। এখন রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ড্রেনসহ সবধরণের উন্নয়নের জন্য এখন নতুন নগরের লোকজনকে চেয়ে থাকতে হচ্ছে সিসিকের দিকে। কিন্তু মাস্টারপ্ল্যান পাশ না হওয়া এবং অপ্রতুল বরাদ্দসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় কাঙ্খিত উন্নয়ন শুরু করতে পারেনি সিসিক। 

 

নতুন নগরের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বর্ষায় অনেক এলাকার কাচা রাস্তায় কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক পাকা রাস্তার পিচ উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকার ইট সলিং রাস্তাও বেহাল। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় স্থানীয়রা যেখানে সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি করেছেন। ছড়া ও খালে দেদারছে ফেলছেন ময়লা। 

 

বর্ধিত নগরের ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে তা নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থাও করতে পারেনি সিসিক। এতে মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। বর্ধিত নগরের কোথাও যেভাবে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা যায়নি, ঠিক একইভাবে বর্ষায় পানি নিষ্কাশনেরও উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এতে খাবার পানির সাথে জলাবদ্ধতার অভিশাপে ভূগছেন বর্ধিত নগরের বাসিন্দারা। এছাড়া সড়ক বাতির অভাবে সন্ধ্যা হলেই এসব এলাকার রাস্তাঘাট অন্ধকারে ডুবে যায়।

 

তবে সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ধিত এলাকা এতোদিন অবহেলিত থাকলেও এখন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে। বর্তমান প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে নতুন এলাকায় নাগরিক সুবিধা বাড়বে। 

 

সিসিকের প্রকৌশল শাখা জানায়, বর্ধিত নগরের উন্নয়নে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প পাশ হয়। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া এ টাকা দিয়ে বর্ধিত এলাকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। শুরুতে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রায় সকল ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। ড্রেন হলেই শুরু হবে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ। এরপর বসানো হবে সড়কবাতি। এই প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আরও একবছর সময় বাড়ানোর জন্য সময় চেয়েছে সিসিক। 

 

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, বর্ধিত নগরের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত  যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে সেগুলো দিয়ে সড়ক ও ড্রেনের কাজ চলছে। কিছু কিছু স্থানে সড়ক ও ড্রেনের কাজ শেষ করে সড়কবাতি বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৪, ৩৫ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণ কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। 

 

সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, বর্ধিত এলাকার প্রায় সবকটি ওয়ার্ডে ড্রেন ও সড়কের কাজ চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। আরও কয়েকটি প্রকল্প পামের অপেক্ষায় আছে। ড্রেন ও সড়ক নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু নতুন এলাকার বেশিরভাগ সড়ক ৬ ফুট বা তার চেয়ে কম প্রশস্ত। সিটি করপোরেশনের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ড্রেন ও সড়ক মিলিয়ে ২০ ফুট জায়গার প্রয়োজন। অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ ছাড়তে রাজি নয়। এজন্য কিছুটা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। 

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ