সিলেট ও বগুড়ায় শুক্রবার ছুটির দিন সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। বগুড়ায় বাসচাপায় সাতজন এবং সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নয়জন নিহত হন। তবে সিলেটের দুর্ঘটনাটি দেখে আবারও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে মহাসড়কে চলা অবৈধ স্লিপার বাস নিয়ে। 

 


 

সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া কয়েকটি দুর্ঘটনা দেখে যাত্রীদের কাছে স্লিপার বাসগুলো সাক্ষাৎ যমদূতই মনে হচ্ছে। তারপরও একটু আয়েশি ভ্রমণের জন্য যাত্রীরা চড়ছেন ঝুঁকিপূর্ণ এই অবৈধ বাসে।

 


গতকাল শুক্রবার সকালে সিলেটের ওসমানী নগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

এতে দেখা যায়, বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ছিল। বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে খাদে চলে যায়।

 


 পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া, দুই বাসের আরও অন্তত ২৪ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও একটি সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।

 


 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসা দুর্ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বেপরোয়া গতিতে চলছিল বেঙ্গল স্লিপার বাসটি। মূলত এসব স্লিপার বাস বিআরটিএ থেকে এসি বাসের অনুমোদন নিয়ে স্লিপার কোচ বানিয়ে ফেলে। বাস মালিকরা লোকাল ওয়ার্কশপে এই স্লিপার বাসগুলো তৈরি করেন।

 


খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, বিআরটিএর ঢাকার বাইরের সার্কেলগুলোতে এসব অবৈধ বাসের নম্বরগুলো দেওয়া হয়। আবার কিছু বাস আছে যেগুলো একই নম্বর দিয়ে চালানো হয়। তবে চট্টগ্রাম বিআরটিএ থেকে সবচেয়ে বেশি সিরিয়াল হয় এসব অবৈধ বাসগুলোর। মূলত একটি সিন্ডিকেট মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও বিআরটিএকে ম্যানেজ করে রাতের বেলায় এসব যান চলাচল করে মহাসড়কে। 

 

 

সাধারণ একটি এসি বাসের ৩৬ সিট থাকলেও অবৈধ এসব যানের নিচে-ওপরে মিলে ৪৫টির বেশি সিট দেখা যায়। বেপরোয়া তরুণ-তরুণীদের অনেককেই এসব বাসে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

 

এদিকে, চলতি বছর ৯ জানুয়ারি ভোরে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাঠবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে তিন যাত্রী নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হন। 

 


তার ঠিক দুই মাস পর গত ২৯ মার্চ দিনাজপুরের বিরামপুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বালুবাহী ট্রাকের পেছনে ঢাকাগামী স্লিপার বাসের ধাক্কায় দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয় যাত্রী আহত হয়েছেন। 

 


গত ৩১ মে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর কদমতলা এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসে দ্রুতগতির স্লিপার কোচের ধাক্কায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

 

এদিকে, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষ বিআরটিএতে গাড়ি নিবন্ধনের জন্য গেলে পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিন্তু এসব অবৈধ বাসকে তারা না দেখেই নিবন্ধন দিয়ে দেয়। এগুলো নিয়ে বছরে পর বছর কথা বলে আসছি, কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। আর কত মৃত্যু হলে এসব অবৈধ যানবাহন বন্ধ হবে সড়ক থেকে? 

 


তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই, সড়ক নিরাপদ রাখতে সড়কের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এসব অবৈধ স্লিপার বাস দ্রুত মহাসড়ক থেকে সরাতে হবে।

 


বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জুবায়ের মাসুদ বলেন, আমাদের সমিতি থেকে অবৈধ বাস চালাতে নিষেধ করা আছে। তা ছাড়া সড়কে বিআরটিএ, পুলিশ প্রশাসন আছে। তারা মনিটরিং করে অবৈধ বাস সড়ক থেকে অপসারণ করতে পারে।

 


সড়কে অবৈধ স্লিপার বাসের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, ‘যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তা হলে অবশ্যই সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তা ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা আনতে বিআরটিএ নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডেস্ক