সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে, এই ঘটনায় মামলা দায়ের পক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান। পরিচয় শনাক্তের পর নিহত ৯ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে বিষয়টি জানিয়েছেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে ভিকটম মামলা দায়ের করবেন। তারা এখনো থানায় আসেন নি। আসলে দ্রুত মামলা রুজু করা হবে। এদিকে, নিহত ৯ জনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নগদ ২০ হাজার টাকা করে তাৎক্ষনিক অর্থ সহযোগীতা করা হয়েছে।
শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ৭ জনের লাশ হস্তান্তরের সময় ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা নিহতের স্বজনদের হাতে আর্থিক সহযোগীতার অর্থ তুলে দেন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিহত দুইজনকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একই পরিমান অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বর আহত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে আইসিইউ’তে থাকা এক জনকে নগদ ১৫ হাজার ও আহত ৭ জনকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা।
এর আগে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো- ব- ১৫-২৫৬৩) একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার (ঢাকা মেট্রো- ব- ১২-৫৯৮৭) কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের ৯ যাত্রী নিহত হন।
নিহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফি উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব) (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার চন্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের মেয়ে ফাইজা (৩), সিলেটের সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে ও বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন, কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ রনিক/ এহিয়া-০৩




