ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স ও এআই।
ঘন ঘন লোডশেডিং, অসহনীয় গরম আর সুপেয় খাবার পানির সংকটে সিলেটবাসীর ত্রাহী অবস্থা। ত্রিমুখী এই সংকট থেকে মুক্তির সুখবরও মিলছে না। বরং সামনে ভোগান্তি আরও বাড়ার আভাস দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত কয়েক দিন থেকে তীব্র গরমে পুড়ছে সিলেট। গরমের কারণে দিনের বেলা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না মানুষ। গরমে রাস্তাঘাট, অফিস- আদালত ও বিপণিবিতানে কমে গেছে জনসমাগম।
আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সিলেটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও অনুভূত হয়েছে ৪৪-৪৫ ডিগ্রি। অত্যধিক আদ্রতার কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি গরম অনুভ‚ত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বাহিরে বের হয়ে তীব্র গরমে অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হন সিলেটভিউ২৪ডটকম’র ভিডিও জার্নালিস্ট আল মাহমুদ। তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সজিব হোসেন জানান, আগামী আরও কয়েকদিন সিলেটে তীব্র গরম থাকতে পারে। বৃষ্টি হলে গরম কমবে, বৃষ্টি না হলে বাড়বে- আবহাওয়ার পূর্বাভাস এমনটাই বলছে। তীব্র গরমের মধ্যে ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। অসহনীয় লোডশেডিংয়ে বাসা-বাড়িতেও মানুষ পড়েছেন অস্বস্তিতে। ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা যাওয়ার কারণে অনেকের বাসার বৈদ্যুতিক ও ইলেক্ট্রনিক্স জিনিসপত্র বিকল হচ্ছে। বিদ্যুৎ না পেয়ে অনেক স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার সিলেটে পিডিবির আওতাধীন এলাকায় ২৬৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২১৫ মেগাওয়াট। ৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকলেও পিক-আওয়ারে সরবরাহ ছিল কম। ফলে তীব্র গরমের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে গ্রাহকদের। গতকালও বিদ্যুৎ সরবরাহের অবস্থাও প্রায় একই ছিল।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন জানান, লোডশেডিং ছাড়াও অনেক সময় সঞ্চালন লাইন, ট্রান্সফরমার ও নানারকম ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
এদিকে, বিদ্যুতের কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সুপেয় পানি সরবরাহ সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা যাওয়ার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় উৎপাদন নলকূপগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে নগরীতে সুপেয় পানির সংকট তীব্র হয়েছে। কোন কোন এলাকায় সারাদিনের মধ্যে একবারও পানি মিলছে না।
এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে পানি সরবরাহ নিশ্চিতে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সিটি করপোরেশনের ট্রিটম্যান্ট প্ল্যান্ট ছাড়া অন্য কোথাও জেনারেটর নেই। তাই বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন নলক‚পগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মানুষ পানির জন্য খুব সমস্যায় রয়েছে। সমস্যার বিষয়টি সিলেট বিদ্যুৎ অফিসকে অবগত করা হয়েছে।
বিদ্যুতের কারণে সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধস নেমেছে। সিলেট জেলা দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব আবদুর রহমান রিপন জানান, একদিকে তীব্র গরম, অন্য দিকে অসহনীয় লোডশেডিং- দুই মিলে সিলেটের মার্কেটগুলো ক্রেতাশূণ্য। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় জেনারেটর চালিয়ে মার্কেট চালু রাখতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে সিলেটে ব্যবসা চালানো দুরূহ হয়ে পড়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ/ এহিয়া-১০




