রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৫২ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া বয়স বিবেচনায় দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. হাফিজুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কারাগারে নেওয়া আসামিরা হলেন যুবলীগ নেতা মোতালিব, যুবলীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালা, রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান, শাহিন হোসেন ইমন, লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাব্বি ওরফে রাফি, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা ওরফে লিমু, জিহাদ হাসান, আবু সাইম ওরফে সায়েম বাবু, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজীব, সানি, রাজন মিয়া, মো. তারেক, তারেক, শাহিন, ফয়সাল, মামুন মিয়া, মুন্না, তামজিদ মিয়া নয়ন, ইয়াছিন, জামিল, রাকিবুল হাসান রাতুল, ফয়সাল, সিয়াম, শরিফ, সাদিকুর রহমান পায়েল, শাহিন আলম, আব্দুল আলী বাবু, অনিক, তারিকুল ইসলাম, আ. রহমান, ইয়ামিন মিয়া, আতিক ও আশিক।
গ্রেপ্তার আবেদনে বলা হয়, গত ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ৫২ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা ১৫ আগস্ট উপলক্ষে একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিলেন। একই সঙ্গে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তা, ষড়যন্ত্র ও অপরাধ সংঘটনের চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে।
আবেদনে আরো বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান।
আসামিদের আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে এবং তারা জামিনে মুক্তি পেলে আত্মগোপনে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।
পরে আদালত গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে এদিন আসামিদের আদালতের এজলাসে তোলা হয়নি এবং তাদের পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৩




