১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে এবং নিহতদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে যুক্তরাজ্যের ম‍্যানচেষ্টার সিটি আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) যুক্তরাজ্যের ম‍্যানচেষ্টার শাহজালাল মসজিদে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 


দোয়া মাহফিল শেষে এক আলোচনা সভা মিলিত হন ম‍্যানচেষ্টার সিটি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দরা। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়। ওই কালরাতেই বিপথগামী সেনাসদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে।

 

এছাড়া হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাঁকে ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকে। ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় বেঁচে যান।

 

বক্তারা আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ এবং আওয়ামী লীগ এক ও অভিন্ন। যতদিন বাংলাদেশে থাকবে ততদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় বিরাজ করবে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ৭৫ এর ১৫ আগস্টে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে জাতিকে কলঙ্কিত ও শোকাবহ করে তুলেছে। সে শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন। আলোচনা সভা শেষে ৭৫ এর ১৫ আগস্টে শাহাদাৎ বরণকারী ও ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।’

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডেস্ক