ছবি: সংগৃহিত

সিলেটের ওসমানীনগর ট্র্যাজেডির কথা ভুলতে পারছেন না সচেতন মহল। স্মরণকালের এ ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৯ জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে গত ৭ আগস্ট সকাল ৭টায়। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী দু’টি বাসের একটি ছিল বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাস। আর নিহত যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন এই বাসের যাত্রী। এখন সিলেটবাসীর কাছে স্লিপার বাসের অপর নাম, ‘যমদূত’!

 


১০/১২ ঘন্টার লম্বা জার্নিতে একটু আরাম-আয়েশের জন্য স্লিপার বাসের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে সাধারণ যাত্রীদের। তবে ৭ আগস্ট ট্যাজেডির পর সচেতন যাত্রীদের অনেকেই এজাতীয় বাসকে ‘যমদূত’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। আর এই যমদূতগুলো প্রকাশ্যে সিলেট, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে দিব্যি চলাচল করছে।

 

বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানী এ ধরনের বাস সার্ভিস দিচ্ছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। তবে আশার কথা, শেষ পর্যন্ত প্রশাসন মাঠে নেমেছে। ৯টি প্রাণ বিসর্জনের পর সিলেটে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জেদ্দা, লন্ডন, ইম্পেরিয়াল, প্যারাডাইজ ও বেঙ্গল পরিবহনকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায়ের পর এ ধরনের বাস সার্ভিস বন্ধের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

 

জানা যায়, সিলেট থেকে বিভিন্ন রুটে ৫টি কোম্পানী স্লিপার বাস পরিচালনা করছে। সিলেট-ঢাকা রুটে ইম্পেরিয়াল পরিবহনের ৫টি স্লিপার বাস যাতায়াত করছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন যাতায়ত করছে এ কোম্পানীর আরও দুটি স্লিপার বাস।

 

প্যারাডাইজ পরিবহনের ৩টি বাস প্রতিদিন সিলেট-ঢাকা রুটে যাতায়াত করে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাতায়াত করে ১টি করে।

 

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার রুটে না গেলেও প্রতিদিন লন্ডন পরিবহনের ৩ ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি স্লিপার বাস সিলেট-ঢাকা রুটে যাতায়াত করছে।

 

তবে জেদ্দা পরিবহনের বাসগুলোর রুট সম্পর্কে তেমন কোনো ধারনা দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

 

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম।

 

তবে স্লিপার বাস চলাচলের কোনো অনুমোদন আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।

 

এদিকে এতদিন এ ব্যাপারে তেমন কোনো তৎপরতা না থাকলেও বর্তমানে নড়েচড়ে বসেছে সিলেটের প্রশাসন। মঙ্গলবার তারা নগরীর কদমতলী এলাকায় স্লিপার বাস পরিচালানা করা ৫টি কোম্পানীকে ১৫  হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে।

 

সিলেট জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্বে ছিলেন সহকারী কমিশনার মো. পারভেজ।

 

অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আজকের অভিযানে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। সেই সাথে তাদের সতর্ক করে দিয়েছি, পরবর্তীতে এই বাস সার্ভিসগুলো বন্ধ না হলে গাড়িগুলো জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে-০৬