ছবি: সংগৃহিত

সিলেটের বিশ্বনাথে ‘বিশেষ ক্ষমতা আইনে’ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ এনে থানায় এক বিএনপি নেতার দায়ের করা মামলায় ‘বিএনপি ও জামায়াত’র একাধিক নেতাকে অভিযুক্ত বা আসামি করা নিয়ে উপজেলা জুড়ে নানান জল্পনা-কল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ওই মামলায় উপজেলার একাধিক নিরীহ ব্যক্তি’সহ বিশ্বনাথের পার্শ্ববর্তী ওসমানীনগর উপজেলার ৩ জন বাসিন্দাকেও অভিযুক্ত বা আসামি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 


শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন, সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র, ত্রাস সৃষ্টি, দেশের উন্নয়নে ব্যাঘাত, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাশকতার পরিকল্পনা’সহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে বিশ্বনাথ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে উপজেলার অলংকারী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ইরন মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন (নং ১৭ /২১/০৮/২০২৬)।

 

৯২ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরোও ৬০/৭০ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে থানায় দায়ের বিএনপি নেতা ইরন মিয়া বাদী হয়ে দায়ের করা সেই মামলায় এজাহারনামীয় অভিযুক্তদের তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ৬৮ নম্বর অভিযুক্ত বা আসামী করা হয়েছে উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউনিয়নের আলমনগর গ্রামের এখলাছ মিয়াকে এবং ৮৬ নম্বর অভিযুক্ত বা আসামী করা হয়েছে জামায়াত কর্মী ও উপজেলার আমতৈল গ্রামের রেনু মিয়াকে।

 

এছাড়া ওই একই মামলায় বিশ্বনাথের একাধিক নিরীহ ব্যক্তি (রাজনীতির সাথে জড়িত নন)’কেও অভিযুক্ত বা আসামী করার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর গ্রামের ছানাওয়ার আলীর পুত্র শাহিন মিয়া (অভিযুক্ত নম্বর ৯০), একই গ্রামের ওয়াহাব মিয়ার পুত্র ফারুক মিয়া (অভিযুক্ত নম্বর ৯১), মুসলেহ উদ্দিনের পুত্র কাজী সাঈদ (অভিযুক্ত নম্বর ৯২)’কেও অভিযুক্ত বা আসামী করা হয়েছে মামলায়।

 

এ ব্যাপারে মামলার ৬৮ নম্বর অভিযুক্ত বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এখলাছ মিয়া বলেন, আমাদের পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত সেই কবে থেকে। আমি নিজেও ওয়ার্ড বিএনপির একটি পদের দায়িত্বে আছি, অথচ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আমিও আসামি, যা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রতিহিংস্বাবশত অদৃশ্য কারণে ওই মামলায় আমাকে অভিযুক্ত বা আসামী করা হয়েছে। আর আমি বিষয়টি বিএনপির শীর্ষমহলকেও অবহিত করেছি।

 

মামলার ৮৬ নম্বর অভিযুক্ত জামায়াত কর্মী রেনু মিয়া বলেন, আমার বাবা-চাচারা আমতৈল গ্রামে বিএনপিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীর সাথে বিএনপির রাজনীতি করার তাদের সম্পর্কও ছিল অনেক ঘনিষ্ঠ। তবে আমি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হেফাজতের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় আমাকে বিএনপি-জামায়াত বলে আসামি করা হয়েছিল। আর এখন আমাকে আওয়ামী লীগের বলে মামলায় আসামি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমতৈল বাজারে সরকারি ভূমি বিক্রির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান থাকায়, আমাকে হয়রাণী করার উদ্দেশ্যে ওই মামলা আসামী করা হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে মামলার ৪৫ নম্বর অভিযুক্ত লায়েক আহমদ বলেন, আমি কখনই কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত ছিলাম না, এমনকি এখনও নেই। আমাকে হয়রাণী করতেই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ওই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। আমি হয়রাণী থেকে মুক্তি ও ন্যায় বিচার চাই।

 

এ ব্যাপারে মামলার ৯১ নম্বর অভিযুক্ত ও ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর গ্রামের ওয়াহাব মিয়ার পুত্র ফারুক মিয়া বলেন, আমি যে ঘটনাস্থলেই ছিলাম না বা যে ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না, সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কিভাবে অভিযুক্ত বা আসামী হলাম তা বুঝতে পারছি না। আমি একজন চা বিক্রেতা। আর চা বিক্রি করেই কিভাবে সংসার চালিয়ে যাব, তা নিয়েই ব্যস্থ থাকি। আমার এলাকায় থাকা সরকারি দলের নেতাকর্মীদেরকেও আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে যে কেউই ভালো ছাড়া খারাপ বলবেনা। আমাকে হয়রাণী করতেই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলায় আসামী করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি প্রশাসনের সচ্ছতা ও সুদৃষ্টি কামনা করছি।

 

বাদীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতেই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে দাবী করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, মামলায় কাকে আসামি করা হয়েছে তা বাদীই ভালো জানেন। তবে পুলিশ মামলার তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রনঞ্জয়/ইকে-০৪