ছবি: ফাইল ছবি।

মেধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে দারিদ্র্য যে বারবার হার মানে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কিশোর আহসান সামী।  সদ্য ২০২৬ সালে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পেয়েছে কাঙ্ক্ষিত ‘গোল্ডেন এ প্লাস’। কিন্তু এই বাঁধভাঙা আনন্দের আলো ছুঁয়ে যেতে পারছে না তার পরিবারকে। মেধার দ্যুতি ছড়ালেও চরম আর্থিক অনটন আর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার অসুস্থতা আজ তার স্বপ্নের পথে এক বিশাল দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 


জানা যায়, শুধু পড়াশোনায় নয়, আহসান সামী বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি ও খেলাধুলায়ও চমৎকার পারদর্শিতা দেখিয়ে অর্জন করেছে বহু পুরস্কার। এমনকি সিলেট বেতারের জনপ্রিয় শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান ‘কিশোরালয়’-এ কবিতা আবৃত্তি করার সুবর্ণ সুযোগও পেয়েছে সে। আহসান সামীর পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা থানার হাড়ং গ্রামে হলেও তাদের বেড়ে ওঠা সিলেটে। ছোটবেলা থেকেই সামীর বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই ছেলেকে ভর্তি করিয়েছিলেন সিলেটের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজে’। সামীর বাবা পেশায় ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (MPO)। স্বল্প বেতনের চাকরি হলেও ছেলের পড়াশোনায় তিনি কখনো কমতি রাখতে চাননি। কিন্তু সামী যখন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে, তখন হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোক (ব্রেইন হেমারেজ) করেন তার বাবা।

 

বাবার আকস্মিক অসুস্থতা ও চিকিৎসার খরচে নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবারটি। একপর্যায়ে থমকে যাওয়ার উপক্রম হয় সামীর পড়াশোনা। তবে ছেলের স্বপ্নের প্রদীপ নেভাতে দেননি তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি সামীর স্কুলের বেতন সম্পূর্ণ মওকুফ করে দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করেন। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার পর সামীর বাবা আগের প্রতিষ্ঠানেই সামান্য বেতনে আবার কাজের সুযোগ পান। সেই সামান্য আয়েই কোনোমতে চলছে চার সদস্যের সংসার-বাবা, গৃহিণী মা, ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছোট বোন এবং সামী।

 

আর্থিক সংকটের চরম বাস্তবতায় ১ম থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত সামীর ভাগ্যে জোটেনি কোনো গৃহশিক্ষক বা কোচিং সেন্টারের সুবিধা। কিন্তু নিজের চেষ্টা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে এগিয়ে গেছে সে। অমানুষিক পরিশ্রম ও একাগ্রতার ফল হিসেবেই ২০২৬ এসএসসি পরীক্ষায় তার এই দুর্দান্ত সাফল্য ও ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ অর্জন।

 

সাফল্যের আলো ছড়ালেও বর্তমানে সামীর পরিবারকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে উচ্চশিক্ষার খরচের চিন্তা। মেধা থাকা সত্ত্বেও অসুস্থ বাবা ও গৃহিণী মায়ের পক্ষে সামীর কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ জোগানোর মতো সামর্থ্য নেই। অর্থাভাবে আজ অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে অলরাউন্ডার এই মেধাবী শিক্ষার্থীর।

 

ছেলের মেধা আর স্বপ্নের প্রদীপ যাতে অসময়ে নিভে না যায়, সেজন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, হৃদয়বান মানুষ ও সরকারের মানবিক সহযোগিতা কামনা করছে সামীর পরিবার। সকলের একটু সহানুভূতি ও ভালোবাসাই পারে আহসান সামীর থমকে যেতে বসা স্বপ্নের চাকা আবার সচল করতে, তাকে পৌঁছে দিতে তার স্বপ্নের শিখরে। প্রসঙ্গত :- আহসান সামীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর- 01758534027

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৯