ছবি: সংগৃহিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। আগামী নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও তৃণমূলে দলীয় কার্যক্রম জোরদারে মনোযোগ দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।

 


বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী সমর্থনের ক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনা, জনপ্রিয়তা ও দলের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে প্রার্থীর ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশলে এগোতে চায় দলটি।

 

দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করতে তৃণমূল নেতাদের কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনাও এসেছে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন নেতারা।

 

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এ প্রসঙ্গে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য, জনপ্রিয় ও দলের প্রতি অনুগত প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে দল কাজ করছে।

 

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দপ্তরে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হলে তা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে দলটি। একই সঙ্গে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

 

সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে দলীয় নিয়োগ নির্বাচনে প্রশাসনকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে অটুট নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

 

এদিকে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, দলীয় প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগের নির্বাচনগুলোর অনিয়ম ও নানা ত্রুটি এড়িয়ে দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ এবং জনস্বার্থের প্রতিফলন ঘটবে, এমন নির্বাচন চান তারা।

 

ভোটারদের মতে, নির্বাচনে প্রার্থীদের পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব ছাড়াই ভোটাররা যেন স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।

 

আগামী নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ফলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে তৎপরতা বাড়ছে।

 

অতীতের ত্রুটি এড়িয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা এখন সিলেটের ভোটারদের।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/নাজাত/ইকে-০৭