ছবি: সংগৃহিত
সিলেট মহানগরীর নিকটতম উপজেলা দক্ষিণ সুরমা। সুরমা নদীর দক্ষিণ তীরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কয়েকটি ওয়ার্ড বিদ্যমান থাকায় ওয়ার্ড আর উপজেলা দক্ষিণ সুরমা হিসাবে ব্যাপক পরিচিত।
সিটি কর্পোরেশনের ঐ ওয়ার্ডগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্বে রয়েছে দক্ষিণ সুরমা পুলিশ ফাঁড়ি ও জিআরপি থানা। বিপুল ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডগুলোর অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের আস্তানা।
মরণনেশা ইয়াবা, গাঁজা, পতিতা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, জুয়ার আসর, অজ্ঞান পার্টির অপতৎপরতাসহ নানান ধরণের অপরাধ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনেই চলছে এসব অপকর্ম। সাধারণ বাসিন্দারা অতিষ্ঠ।
দক্ষিণ সুরমা থানাধীন জৈনপুরের বিভিন্ন গলিতে ও জৈনপুর প্রাইমারী স্কুলের পাশে বাশির পয়েন্ট নামে পরিচিত স্থানে বিভিন্ন চায়ের দোকানে বসে তীর জুয়া ও চায়ের দোকানের পিছনে তিন তাসের জুয়ার আসর বসে নিয়মিত। গত কয়েকদিন আগে জৈনপুর এলাকার বাশির পয়েন্টে দক্ষিণ সুরমা ফাঁড়ি পুলিশের অভিযানে ২ জনকে আটক করলেও পরের দিন থেকে আবারও ঐ জায়গায় দিনে-রাতে চলছে জুয়ার আসর।
জৈনপুর হাওরের মধ্যে বাড়ি তৈরী করে বসবাস করে আসছে ফখরুল নামের এক মাদক ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ী কানাইঘাট হলেও জৈনপুর হাওরের মধ্যে বাড়ি বানিয়ে এলাকার উঠতি ছেলেদেরকে সাথে নিয়ে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকার অনেক কলোনীর কিশোর ছেলেদেরকে দিয়ে কদমতলী ফেরীঘাট, বাস টার্মিনাল, কদমতলী পয়েন্ট, স্টেশন রোড সহ বিভিন্ন জায়গায় ও কলোনীতে খুচরা ইয়াবা বিক্রি করছে। সন্ধ্যার পর থেকে ফখরুলের হাওরের বাড়ীতে মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ার মত। মটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিক্সাযোগে মাদক ক্রেতারা ফখরুলের বাড়ীতে ভীড় জমায়।
সরজমিনে জৈনপুর এলাকায় গেলে এলাকার কয়েকজন মুরব্বীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রতিটা কলোনীতে মাদক ও জুয়া চলে। বাধা দিলে উঠতি বয়সী ছেলেরা মারমুখি হয়ে উঠে, তাই লাজ লজ্জার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। জৈনপুর বিভিন্ন বাসা বাড়ী ও দোকান পাঠে চুরি হচ্ছে। এর প্রধান কারণই হলো মাদকের নেশার টাকা ও জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে চুরি ছিনতাইয়ের পথ বেচে নেয়।
কদমতলী ফেরীঘাট এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত উঠতি বয়সী ছেলেদের আনাগোনা এবং ইয়াবা সেবনের নিরাপদ আস্তানা মনে করে ফেরীঘাটের নদীর পার। গত কয়েকদিন আগে ফেরীঘাটে উঠতি বয়সী এক যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সচেতন মহল মনে করেন, পুলিশের টহল জোরদার হলে এবং গভীর রাতে উঠতি বয়সী ছেলেদের চলাফেরা নজরে রাখলে এবং সন্দেহ হলে আটক করলে অনেকাংশে অপরাধ কর্মকান্ড কমে যাবে বলে তারা মনে করেন।
এদিকে মোগলাবাজার থানার আলমপুর, কুচাই, সোনারগাঁ ও পারাইরচক এলাকায় অনেক মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীরা নির্জন স্থান থাকায় অনেক মাদকসেবী ও জুয়াড়ীরা তাদের কাজ চালিয়ে যায়। অনেক সাধারণ মানুষ রাত ১০ টার পরে ঐ এলাকা দিয়ে যেতে ভয় পায়। শিববাড়ীর শিব মন্দীরের পিছনে খালি জায়গায় বসে জুয়া ও মাদক সেবন করে উঠতি বয়সী ছেলেরা। গতকাল রাতে শিববাড়ী পয়েন্টে একটি দোকান চুরি হয়। দোকানের অনেক মালামাল নিয়ে যায়। এসব থেকে পরিত্রান চায় জনসাধারণ।
এ ব্যাপারে এসএমপির পুলিশ কমিশনার সরওয়ার মুর্শেদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মাদক জুয়ার উপরে আমরা জিরো ট্রলারেন্সে আছি। যে এলাকা চিহ্নিত ঐ এলাকায় আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। আপনাদের কাছে কোন তথ্য থাকলে আমাদেরকে সরাসরি জানাবেন। মাদক ব্যবসায়ীরা কোন পার পাবেনা ইনশাহ আল্লাহ। মাদক জুয়া নির্মূল করব।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শোয়েব/ইকে-১০




