ছবি: সংগৃহিত
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ সিলেট সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সফরকালে মহানগরীর ৭টি পয়েন্টে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানাবেন। এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। ইতিপূর্বে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচীতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। এরপর তিনি চলে যাবেন সার্কিট হাউসে। সেখান থেকে বের হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও দুপুর দেড়টার দিকে হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি নগরভবনের সামনে সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নিবেন এবং রাত ৮টায় ওসমানী বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নাগরিক সংবর্ধনা দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সিসিক। প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, নগর ভবনের সামনে সংবর্ধনাস্থলে ১ হাজার ২শ’ আমন্ত্রিত অতিথির বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সিলেটের মন্ত্রী ও হুইপ ছাড়া বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর আধাঘন্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন রাখা হয়েছে।
কাইয়ূম চৌধুরী আরও জানান, অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি রাখা হয়েছে অরাজনৈতিক। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৭টি পয়েন্টে স্বাগত জানাবেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, চৌকিদেখি, আম্বরখানা, দরগাহ গেইট, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, টিলাগড় ও শাহপরাণ পয়েন্টে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাবেন পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডগুলোর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে নগরীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ উপলক্ষে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) প্রায় ১ হাজার ২০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন ইউনিটকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়েছে।
এসএমপির সুত্রে জানায়, রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে বিশেষায়িত চারটি টিম কাজ করবে। এরমধ্যে রয়েছে সিআরটি, বোমা ডিসপোজাল, ড্রোন ও স্ট্রাইকিং টিম। পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও রাষ্ট্রপতির চলাচলের রুটে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।
এছাড়াও,নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্থাপিত ১০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় থাকবেন প্রায় দুই হাজার ট্রাফিক পুলিশ। র্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের সংবর্ধনাস্থল, বিমানবন্দর সড়ক, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা, শাহপরান (রহ.) মাজার এলাকা ও সার্কিট হাউসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো।
রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও বিশেষ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মো. আফজাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে-০১




