সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা চতুর্থ বারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নির্ধারণে গঠিত ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। গণনা শেষে দানের টাকাগুলো জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা নির্ধারিত হিসাব নম্বরে জমা রাখা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা। তিনি জানান, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থ চতুর্থ দফায় প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। মাজার প্রাঙ্গণে উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে এই গণনার কার্যক্রম চলবে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনকালে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুন মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
পরবর্তীতে গত ২২ জুন প্রায় সাতশ বছরের প্রচলিত প্রথা ভেঙে ঐতিহাসিক দানের ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করা হয়। সেদিন মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। সাথে কিছু স্বর্ণও পাওয়া যায়। এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক যুক্ত করা হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। যা সোনালী ব্যাংকের একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
পরবর্তীতে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি, আধুনিক ও স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ২৬ জুন ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন-সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, মাজারের মোতাওয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। জেলা প্রশাসক এ কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চলতি বছরে মাজারের দানবাক্স দ্বিতীয় দফায় খোলা হয় গত ১১ জুলাই। ১৮ দিন পর খোলে নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স খোলা হয়। ওই দফায় নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। তখন যুক্তরাজ্যের ৩১ পাউন্ড ১১ পয়সা, ৩ হাজার ২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ ডলার, ১০০ নেপালি রুপিসহ মোট ১৯টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর বাইরে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণালংকার ও ১ ভরি ২ আনা রুপা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নজরানা হিসেবে কিছু গরু ছাগল, হাঁস-মুরগি পাওয়া যায়।
এদিকে, গত ২৬ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এবার সেই কমিটির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, কমিটির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে আসার পরই এটি প্রকাশ করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আশিক-১৬




