২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যখন সরকার বিরোধী আন্দোলনে সারা দেশ উত্তাল, তখন মকসুদ আহমদ ছিলেন ছাত্রদল নেতা। প্রতিদিন তাঁর নেতৃত্বে সিলেট নগর ও দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হতো। আন্দোলনের তীব্রতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় মকসুদের নাম ওঠে ‘মোস্ট ওয়ান্টেডে’। ‘ধরা পড়লেই ক্রসফায়ার’- এমন শঙ্কাকে মুঠোয় পুরে প্রতিদিন নানা কর্মসূচিতে অংশ নিতেন মকসুদ। 


আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে আসামী হয়েছেন ডজন ডজন মামলার। ফেরারি জীবন কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। বাধ্য হয়ে নগরের জিন্দাবাজারের ব্লু-ওয়াটারের একাধিক দোকান বিক্রি করে দিতে হয়। আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও ভেঙে পড়েননি মকসুদ। মামলা-হুলিয়া নিয়েই ঠিক হয় তার রাজনৈতিক গতিপথ। 



বিগত ১৭ বছর রাজনীতির মাঠকে পিঠ দেখাননি মকসুদ। জীবনতুচ্ছ করে আন্দোলনে থাকা মকসুদকেও ভুলেনি তাঁর দল। ছাত্ররাজনীতির পাঠ চুকিয়ে তিনি জেলা যুবদলের সদস্যসচিব নির্বাচিত হন। এরপর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ রবিবার জেলা যুবদলের সভাপতির পদ পেয়েছেন তিনি। 


এ ছাড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মকসুদ। 


দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন- মকসুদের এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক পদোন্নতিতে রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যান ও তারেক রহমানের আস্থা। তৃণমূল থেকে ওঠে আসা একজন নেতা হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন এই আস্থা। 


এ প্রসঙ্গে মকসুদ আহমদ বলেন, ‘জীবন বাজি রেখে দলের পক্ষে সবসময় মাঠে ছিলাম। কখনো আদর্শচ্যূত হইনি। দলের চেয়ারম্যানের কতটুকু আস্থা অর্জন করতে পেরেছি জানি না, তবে কখনো দল এবং জিয়া পরিবারের সাথে বেঈমানী করিনি। চেষ্টা করেছি দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চ দেওয়ার।’


সিলেটভিউ২৪ডটকম/এএ