ছবি: সংগৃহিত
সিলেটের গোলাপগঞ্জে জোরেসুরে বইছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনী হাওয়া। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে নবীন-প্রবীণ মিলে শতাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রচারে নেমে পড়েছেন নির্বাচনী মাঠে।
হাট- বাজার থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলসহ সর্বত্রই নির্বাচনী আড্ডায় সরগরম। এমনকি বিয়ে, ওয়ালিয়া, জানাসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান করছেন।
এলাকাবাসীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। এলাকার ভোটারদের পাশাপাশি নিজ নিজ দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিজের কাছে টানতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হচ্ছেন। চাচ্ছেন দোয়া। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি এখনো কোনো ইউনিয়নে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে জামায়াতে ইসলামী ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিতে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
জানা যায়, উপজেলার বাঘা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল কাদের সেলিম, কাদির হোসেন বাবুল, বিএনপি নেতা আহাদুর রহমান কামরুল, রাহুল হোসেন সাহেল, আবুল হাসনাত ও সাবেক চেয়ারম্যান ছানা মিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে।
এই ইউনিয়নে জামায়াত মোশারফ হোসেন শামীমকে সম্প্রতি প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছে।
সদর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আশফাক আহমদ চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন চৌধুরী সুমন, বিএনপি নেতা আইনুল ইসলাম রেকল, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, যুবদল নেতা সাকিল আহমদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান স্বপন, ময়েজ উদ্দিন, প্রবাসী গৌছ উদ্দিন ও বিএনপির সুলতানা মাহমুদ সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন।
তবে এই ইউনিয়নে জামায়াত তাদের প্রার্থীর নাম এখনো ঘোষণা করেনি।
ফুলবাড়ী ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন এমরান আহমদ, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ মামুন, মো. আব্দুল্লাহ, তালামীযে ইসলামীর কাশেম ইসলাম ও আতাউর রহমান আতস।
এ ইউনিয়নে আসাদুজ্জামান পাপ্পুকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত।
লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নে বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম, আব্দুল আলীম তুহিন, মাহতাব উদ্দিন জেবুল, মাহমুদ সাঈদ ও যুবদল নেতা কাদির রিপন চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই ইউনিয়নে মাসুদ আহমদকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করছে জামায়াত।
ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নে জামায়াত নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রহিমকে প্রার্থী করছে দলটি। এই ইউনিয়নে বিএনপি নেতা দেওয়ান নজরুল ইসলাম, যুবদল নেতা শাহজাহান আহমদ, সাশাদ আহমদ প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শামীম আহমদ, মহিউজ্জামান লাভলু, আনিসুজ্জামান পাপ্পু ও সাহেদ আহমদ প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
বুধবারীবাজার ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা হেলাল আহমদ প্রার্থী হচ্ছেন বলে জোর আলোচনা রয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম, যুবদলের রেজাউল করিম রেজা, বিএনপি নেতা আব্দুল মুতলিব চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে দলের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন আহমদ, এম কবির উদ্দিন, বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল সাবু, জয়নাল আবেদীন, সোহরাব আহমদ সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনি প্রচারে নেমে পড়েছেন। এই ইউনিয়নে জামায়াত আতিকুর রহমানকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতা রুহেল আহমদ, নুরুল ইসলাম মুন্না ও মাহবুবুল হক সম্ভাব্য প্রার্থী হচ্ছেন বলে আলোচনা রয়েছে। এই ইউনিয়নে রাসেল আহমদকে প্রার্থী করেছে জামায়াত।
লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে বর্তমান চেয়ারম্যান খলকুর রহমান, বিএনপি নেতা অলিউর রহমান শামীম, আজি মো. কাওছারের নাম শোনা যাচ্ছে। আর জামায়াতের হাফিজ নাজমুল হোসাইন বুলবুল, মাওলানা ছাদিকুর রহমান, হাফিজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বাবুল প্রার্থী হতে নির্বাচনি তৎপরতা চালাচ্ছেন।
বাদেপাশা ইউনিয়নে জামায়াতের জহিদ হোসাইনকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই ইউনিয়নে বিএনপির খুরশেদ আলম, মহিউদ্দিন রুহেল ও জাহিদুর রহমান দলীয় সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/হারিছ/ইকে-১০




