পূর্ব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী বাংলা টাউনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘ব্রিকলেন কারি ফেস্টিভ্যাল’। জমজমাট এ আয়োজনকে ঘিরে ব্রিকলেনজুড়ে নামে মানুষের ঢল। আয়োজকদের দাবি, এবারের উৎসবে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। যদিও এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গতবারের তুলনায় এবার দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ব্রিকলেনের প্রবেশমুখ বাংলা টাউন গেট থেকে শুরু করে পুরো সড়কজুড়েই ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। নানা জাতি, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী ব্রিকলেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে অংশ নেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।


কারি ফেস্টিভ্যালকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ। আয়োজকদের মতে, এমন আয়োজন ব্রিকলেনের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, ক্যাটারিং ও অন্যান্য স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তবে এই উৎসবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্রিকলেনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হওয়া।

কারি ফেস্টিভ্যালের মাধ্যমে তারা জানতে পারছে, তাদের পূর্বপুরুষেরা প্রায় একশ বছর আগে কীভাবে এই এলাকায় এসে বসতি গড়ে তুলেছিলেন। বর্ণবাদসহ নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে কীভাবে তারা ধীরে ধীরে ব্রিকলেনকে নিজেদের নিরাপদ আবাসস্থল ও ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, সেই ইতিহাসও নতুন প্রজন্মের সামনে উঠে আসছে।

ব্রিকলেনের কারি সংস্কৃতি আজ শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐতিহ্য নয়; বরং এটি লন্ডনের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

এমন আয়োজন শুরু করার উদ্যোগের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুতফুর রহমান, বাংলা টাউন বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

অংশগ্রহণকারীদের মতে, ব্রিকলেন কারি ফেস্টিভ্যালকে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা গেলে এর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে। বিশেষ করে আগামী বছর থেকে শনিবার ও রোববার—দুই দিনব্যাপী কারি ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা এখন সময়ের দাবি।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-০২