ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে লেকের পানিতে ডুবে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ২০ বছর বয়সী ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম। গত ২৬ সেপ্টেম্বর এ দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর লেকের পানি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, লেকের পাড়ে ওযু করতে যাওয়ার সময় প্রবল বাতাসের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান নাঈম। এ সময় পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে উদ্ধারের জন্য পানিতে ঝাঁপ দেন। তবে নাঈম সাঁতার না জানায় দ্রুত পানিতে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান শুরু করে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলে উদ্ধার অভিযান। প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
নাঈম লন্ডন থেকে দুই বাংলাদেশি বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়েছিলেন। আকস্মিক এ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
নাঈমের মামা মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার খবর পান। খবর পাওয়ার পর পূর্ব লন্ডনের লাইমহাউজের বাসিন্দা নাঈমের বাবা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম দ্রুত ওয়েলসের উদ্দেশে রওনা হন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নাঈমের মরদেহ ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়েলস থেকে লন্ডনে নিয়ে আসা হতে পারে। তবে জানাজার সময় ও স্থান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তা জানানো হবে।
মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম ছিলেন পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। তিনি যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন।
নাঈমের বাবা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের একজন সদস্য। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার ইউনিয়নে।
মাত্র ২০ বছর বয়সে নাঈমের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকাহত পরিবার ও স্বজনরা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও এ ঘটনায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-০২






