মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া সোনা ও রুপার পরিমাণ জানা গেছে। ছয় বছরে মসজিদটির দানবাক্সে জমা হয়েছে ১০৪৪ ভরি সোনা ও ১০৮৮ ভরি রুপা। এ ছাড়া পাওয়া গেছে ৩০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দিনভর বাছাই, পরিমাপ ও গণনা শেষে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে সোমবার সকাল ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি থেকে সিলগালা করা কন্টেইনার ও খাম বের করা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তায় সেগুলো কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নেওয়া হয়।
সেখানে নয়টি কন্টেইনারে রাখা সোনা-রুপা এবং ছয়টি সিলগালা খামে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা গণনা ও পরিমাপের কাজ শুরু হয়। দিনভর এ কার্যক্রম চলে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন এসআরবি সদস্য।
পরিমাপ ও মুদ্রা গণনার কাজে অংশ নেন জেলা প্রশাসন, পাগলা মসজিদ ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাঁদের সহযোগিতা করেন জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, ছয় বছরে জমা হওয়া সোনার পরিমাণ ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম, যা ১০৪৪ ভরি। আর রুপার পরিমাণ ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম , যা ১০৮৮ ভরি।
গণনা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা রূপালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছী জানান, ৩০টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোনা ও রুপার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণের পর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হবে। আর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
পাগলা মসজিদের দানবাক্স সাধারণত তিন মাস পরপর খোলা হয়। এতে নগদ টাকা-পয়সার পাশাপাশি সোনা-দানা পাওয়া যায়। দানবাক্স খোলার পর নগদ অর্থ গণনা করে দ্রুত হিসাব জানানো হলেও সোনা-দানা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়।
সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ সোনা-রুপার হিসাব করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় তিন বছরে জমা হওয়া ৪২০ ভরি সোনা ও ১৮৮ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১২০ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া যায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
২০২০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত পাগলা মসজিদের দানবাক্স ১৮ বার খোলা হয়েছে। তবে সোনা-রুপা পরিমাপ ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনার আয়োজন এবারই প্রথম।
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরো জানা যায়, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। পাশাপাশি মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুদান হিসেবে এসেছে আরো ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ দেশজুড়ে পরিচিত। মানত পূরণের আশায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এ মসজিদে এসে দান করেন। এসব দানের অর্থ মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৯





