আপন দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে এবং তদন্ত সাপেক্ষে নিজের কষ্ঠার্জিত টাকায় ক্রয়কৃত সম্পদগুলো ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী খছরু মিয়া।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্বনাথ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ধোপাকলা গ্রামের ছুফু মিয়ার পুত্র প্রবাসী খছরু মিয়া নিজেই জেলা প্রশাসক বরাবরে ওই লিখিত আবেদন দায়ের করেন।


লিখিত আবেদনে প্রবাসী খছরু মিয়া উল্লেখ করেছেন, ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি (প্রবাসী) আপন দুই ভাই (গৌছ মিয়া ও গয়াছ মিয়া)’র কাছে চরম প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অথচ খছরু মিয়া যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পূর্বে তার দুই ভাই ‘গৌছ মিয়া ও গয়াছ মিয়া’র জীবন-জীবিকা রক্ষা করার মতো ভালো তেমন কোন ব্যবস্থা ছিলনা। তিনি (খছরু মিয়া) যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার পর দেশে জায়গা-জমি ক্রয় ও বাড়ি নির্মাণের জন্য বিশ্বাস করে নিজের পরিশ্রমে উপার্জিত সম্পূর্ণ টাকা পাঠান নিজের ওই দুই ভাইয়ের কাছে, আর প্রবাসীর দুই ভাই (গৌছ মিয়া ও গয়াছ মিয়া) ওই সুযোগ কাছে লাগিয়ে প্রতারণা করে প্রবাসী খছরু মিয়ার নামের পাশাপাশি জায়গা-জমি ও বাড়ির দলিলে নিজেদের (দুই ভাই) নাম অন্তর্ভুক্ত করে নেন। অথচ প্রবাসী নিজের ভাইদের ছেলেদেরকেও যুক্তরাজ্যে নিয়েছেন। তাদের বিয়ে করানো থেকে শুরু করে প্রায় ২০ বছর ধরে পরিবারের খরচও চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন যে, প্রবাসীর দুই ভাই (গৌছ মিয়া ও গয়াছ মিয়া) প্রতারণার মাধ্যমে প্রবাসী খছরু মিয়ার সম্পদের দলিলে অংশিদার হয়েছেন। এরপর থেকে প্রবাসী এবিষয়ের প্রতিকার পাওয়ার জন্য এলাকার মুরব্বিয়ানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু একাধিকবার বিচার বৈঠক করেও এর কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না প্রবাসী। তাই সঠিক বিচার পাওয়ার আশায় ভাইদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে এবং তদন্ত সাপেক্ষে নিজের কষ্ঠার্জিত টাকায় ক্রয়কৃত সম্পদগুলো ফেরত পাওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসক বরাবর নিজেই লিখিত আবেদন করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী খছরু মিয়া।

জানতে চাইলে গ্রামের মুরব্বী ও পৌরসভার স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মুহিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, খছরু মিয়া যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর তার ভাইদের মাধ্যমে জায়গা-জমি বা বাড়ির জায়গা ক্রয় ও ঘর নির্মাণ করেছেন সত্য। কিন্তু বর্তমানে তাদের মধ্যে মনমালিন্য দেখা দেয়ায় গ্রামের ও বাহিরের মুরব্বিয়ানরা বিষয়টি আপোষ-মিমাংশায় শেষ করার জন্য সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে দেখে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করেও অভিযুক্ত গৌছ মিয়া ও গয়াছ মিয়া’র সাথে যোগাযোগ করা বা তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রনঞ্জয়/এসডি-১৪