সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ কলাবাড়ি পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ (মনির মসজিদ)-এর দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনসহ মুসল্লিদের ইবাদতের পরিবেশ উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবকল্যাণমূলক সংগঠন হ্যাপি ফাউন্ডেশন ইউএসএ।
 

মসজিদের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওই পানি অজুর উপযোগী ছিল না। ফলে অজু করতে গিয়ে মুসল্লিদের ভোগান্তি পোহাতে হতো।


এ সমস্যা সমাধানে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নদী থেকে পানি উত্তোলনের জন্য মোটর ও পানির লাইন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
 

শুধু পানির সংকট নিরসনই নয়, মুসল্লিদের নামাজ ও ইবাদতের পরিবেশ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে মসজিদে সিলিং ফ্যান, মাইক ও পিএ সিস্টেম, নামাজের কার্পেটসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) জুমার নামাজের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সহায়তা মসজিদ কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মসজিদ কমিটির সভাপতি হারুন উর রশীদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মো. ফয়ছল আলম।
 

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন হ্যাপি ফাউন্ডেশন ইউএসএর বাংলাদেশ কান্ট্রি ইনচার্জ নাফিজ হান্নান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আলীম, সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী লায়ন আসাদুল হক আসাদ এবং কলাবাড়ী স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন- কোম্পানীগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নাঈম, ট্রাস্টের প্রতিনিধি খালেদ আহমদ, সমাজসেবী জামাল মিয়া, হুমায়ুন রশীদ উমনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। 

অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম মাওলানা জামিল আহমদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ফয়সাল আলম বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগেই সমাজের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান সম্ভব। হ্যাপি ফাউন্ডেশন ইউএসএ ধারাবাহিকভাবে সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
 

এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী মসজিদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসায় হ্যাপি ফাউন্ডেশন ইউএসএর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের মতে, এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের অজুর পানির সমস্যা দূর হয়েছে, অন্যদিকে মসজিদের সার্বিক পরিবেশেও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবভিত্তিক এ সহযোগিতা স্থানীয় পর্যায়ে মানবিক উদ্যোগের একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, ‘মানবতার কল্যাণ’ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে হ্যাপি ফাউন্ডেশন ইউএসএ বিভিন্ন মানবকল্যাণমূলক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১৯