বিশিষ্ট জিনবিজ্ঞানী ও পঞ্চব্রীহি ধানের উদ্ভাবক ড. আবেদ চোধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বহু পণ্ডিত ব্যক্তিত্বের জন্ম দিয়েছে। এখন উদ্ভাবকদেরকেও জন্ম দিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা এমন হবে, যা উদ্ভাবকের জন্ম দেবে।

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান লাইব্রেরি হলে আয়োজিত ‘আমার গবেষণা: ধারণা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যে পাঠ দান করছে তা সন্তোষজনক, কিন্তু এখন কারিকুলামভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার বিষয়গুলোকে সহজ করে সকল স্তরের মানুষের উপযোগী করে তুলতে হবে, তাহলে এই শিক্ষা কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসবে।’ এই ধরনের শিক্ষার পরিপ্রেক্ষিত ও পরিবেশ তৈরির জন্য একজন শিক্ষককে কী কী করতে হবে তা বলতে গিয়ে অরিগন বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইটিতে তার গবেষণার  অভিজ্ঞতা ও  জিন আবিষ্কারের কাহিনী তুলে ধরেন। তিনি  কবি রবীন্দ্রনাথ, কবি এমিলি ডিকিনসন, টি. এস এলিয়ট ও গাছের প্রাণ-আবিষ্কারক জগদীশচন্দ্র বসুর উদাহরণ এনে বলেন, ‘তাঁদের লেখায় একই সঙ্গে প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের কথা এসেছে, তা পড়ে মানুষ আলোড়িত ও উপকৃত হয়েছে। তাই এই সময়ে এসে আমাদেরকে প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন হলে চলবে না।’

ড. আবেদ চৌধুরী মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে পৌঁছলে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এমিরেটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।

ড. আবেদ চৌধুরীর গবেষণার বিষয়, বিশেষত একবার চারা রোপণ করে পাঁচবার ধান উৎপাদনকারী পঞ্চব্রীহি ধানসহ অন্যান্য গবেষণার কথা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক তাঁর স্বাগত বক্তব্যে উপস্থাপন করেন। ড. আবেদ চৌধুরী তার কর্ম ও গবেষণার স্বত্বকে কিভাবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছেন সে বিষয়ে আলোকপাত করেন ডা. মোস্তফা শাহজাহান চৌধুরী বাহার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোস্তাক আহমাদ দীনের সঞ্চালনায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুল অফ বিজনেস এন্ড ইকোনমিকসের ডিন প্রফেসর ড. মাসুদ রানা, স্কুল অফ ল-এর ডিন প্রফেসর শেখ আশরাফুর রহমান, রেজিস্ট্রার সুমনা আজিজ, প্রক্টর সৈয়দ নকীব সাদিসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীকে ফুল দিয়ে বরণ করেন ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।  

মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এমিরেটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী বলেন, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীকে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি শুধু বাংলাদেশের গর্ব নন, বরং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তাঁর গবেষণা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং বিজ্ঞানচর্চা মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিশেষ করে কৃষিবিজ্ঞান, জেনেটিকস ও জীবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা আমাদের নতুন করে আশাবাদী করে। তাঁর মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীর অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও চিন্তাধারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং তরুণ গবেষকদের অনুপ্রাণিত করবে।

বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান চৌধুরী বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত অগ্রগতি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গবেষণা, উদ্ভাবন, সৃজনশীল চিন্তা এবং জ্ঞানচর্চার উৎকর্ষের মধ্যেই তার সার্থকতা নিহিত। ড. আবেদ চৌধুরীর মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীর উপস্থিতি আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে