জমি অধিগ্রহণে আটকে আছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দ। এ বন্দর দিয়ে পুরোদমে চালু হচ্ছে না আমদানি-রপ্তানি। প্রায় ১ বছর আগে ২৯ একর জমি চিহ্নিত করে অধিগ্রহণের আবেদন জমা পড়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে। সেই ফাইল সম্প্রতি গেছে পরিবেশ অধিদপ্তরে। পরিবেশের ছাড়পত্র পেলেই জমি অধিগ্রহণ শুরু হবে।

২০০৫ সালে যাত্রা শুরু সিলেটের ভোলাগঞ্জ বন্দরের। ২০১৯ সালে এটি দেশের ২৪তম স্থলবন্দর হিসাবে গেজেটভুক্ত হয়। এর আগ পর্যন্ত সেটি শুল্ক স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এ বন্দর দিয়ে শুধু চুনাপাথর আমদানি করা হচ্ছে বর্তমানে। রপ্তানি হচ্ছে না কোনো পণ্য। পুরোদমে চালু হলে এ স্থলবন্দর দিয়ে বেড়ে যাবে আমদানি-রপ্তানি। ফলে সিলেট অঞ্চল উপকৃত হওয়ার পাশপাশি দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে এ স্থলবন্দর।


এদিকে, ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর দিয়ে এখনো চালু হয়নি ইমিগ্রেশন সেবা। ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রক্ষায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। সময় লাগে দুদিন। অথচ এই সেবা থাকলে যা সম্ভব হতো মাত্র ২০ মিনিটে। তাছাড়া স্থলবন্দরটিতে ইমিগ্রেশন সেবা না থায় নানা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় পর্যটকরা ঢুকতে পারছেন না ভোলাগঞ্জের সাদাপাথরসহ পার্শ্ববর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। এসব দিক বিবেচনা করেই সিলেট জেলা প্রশাসন থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা আটকে আছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে।

ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর দিয়ে চুনাপাথর আমদানিকারী ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বসেন ভারতের ভোলাগঞ্জ বাজারে। যা স্থল বন্দরের বাংলাদেশ অংশ থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে। ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের দুই দেশের ব্যবসায়ীরা দুই কিলোমিটার দূরত্বে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকরা ব্যবহার করছেন সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পোস্ট। যার ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের পাড়ি দিতে হয় ১৬০ কিলোমিটার পথ।

অন্যদিকে সম্ভাবনাময় কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথরসহ অন্য পর্যটনকেন্দ্রে আসতে হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য মেঘালয়ের পর্যটকদের পাড়ি দিতে হয় ১৫০ কিলোমিটার পথ। একইভাবে বাংলাদেশের পর্যটকরা ভারতের চেরাপুঞ্জিতে যেতে হলে তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ব্যবহার করছেন। সেখানেও প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন চালু হলে ২০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েই চেরাপুঞ্জিতে আসা বিদেশি পর্যটকরা একদিনেই ঘুরে যেতে পারবেন সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র। একইভাবে একদিনেই চেরাপুঞ্জি ঘুরে আসতে পারবেন বাংলাদেশের পর্যটকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- সিলেটের ভোলাগঞ্জ ও শেওলাকে একই সময় স্থলবন্দর ঘোষণা করে সরকার। হিসাবমতে- শেওলার আগে ভোলাগঞ্জে উন্নয়নকাজ আগে হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। অথচ শেওলা বন্দরে জমি অধিগ্রহণ শেষে উন্নয়নকাজ চলমান। এ বছরের শেষদিকে সেটি পুরোদমে চালুর কথা রয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে আছে ভোলাগঞ্জ।

তামাবিল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম ভূঁইয়া সিলেটভিউ-কে বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর এবং অধিগ্রহণের জন্য চিন্হিত জমি পরিদর্শন করেছি। এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকসহ জেলা প্রশাসনের একটি টিম। জমি অধিগ্রহণ শুরুর জন্য এক বছর আগে জেলা প্রশাসনে চিঠি দেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে সময়মতো অধিগ্রহণ সম্ভব হয়নি। গত ১০ দিন আগে জেলা প্রশাসন থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরে জমির বিষয়ে ছাড়পত্রের আবেদন করা হয়েছে। এখন পরিবেশের ছাড়পত্র পেলেই জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে। পরবর্তীতে উন্নয়নকাজের বাজেট নির্ধারণ করে তা শুরু হবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম