হবিগঞ্জে বন্যা কবলিত এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। যদিও নিন্মাঞ্চলের কিছু কিছু গ্রামে এখনও পানি রয়েছে। তবে এরই মধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ সহযোগিতা পৌঁছে দিচ্ছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নৌকাযোগে বন্যা কবলিত এলাকায় ড্রোন দিয়ে সহায়তা নিয়ে দুর্গতের পাশে দাড়িয়েছে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি। এসময় উপস্থিত ছিলেন- হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ ও হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা।
.gif)
বিজিবি জানায়- বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের বন্যা কবলিত কয়েকটি গ্রামে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে। এতে ৪০০টি পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ, ২০০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী এবং ২০০টি পরিবারের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যাদুর্গত এলাকার প্রায় ১৫০টি গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদানের জন্য পশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের আলাদা একটি দল সারাদিন কাজ করেছে।
ব্যতিক্রমধর্মী ও অভিনব উদ্যোগ হিসেবে ৫৫ বিজিবি ড্রোনের মাধ্যমে দুর্গম ও বন্যাকবলিত গ্রামের অসহায় মানুষের মাঝে শুকনা খাদ্যদ্রব্য এবং নগদ অর্থ বিতরণ করেছে। এই সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি দুর্গম এলাকায় দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দিতে সহায়ক হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক ক্যাপ্টেন সাফায়েত হোসেন, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ বলেন, “হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন ও ব্যতিক্রমধর্মী ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অনেক অসহায় ও দরিদ্র বন্যার্ত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং স্বাস্থ্যগত পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ সহায়তা বিতরণের মাধ্যমে অনেক পরিবারের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়েছে। বিজিবির এই সামাজিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ মানবিক মূল্যবোধ ও সহমর্মিতার চর্চাকে আরও উৎসাহিত করবে।
৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান বলেন, চলমান টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় হবিগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গত মানুষের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ, জরুরী চিকিৎসা সহায়তা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করে দুর্গতদের দুর্ভোগ লাঘব করছি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাকির/এসডি-০৬




