মধ্যরাতে ভাঙা হচ্ছে বন্দরবাজারের সেই রিকশা লেন। ইনসেটে লেন তৈরির পরের ছবি।
নগরভবন, সিটি সুপার মার্কেট ও সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডাকঘরের সামনের সড়কে যানজট কমাতে রাস্তায় গার্ড ওয়াল দিয়ে আলাদা রিকশা লেন তৈরি করেছিলো সিলেট সিটি করপোরেশন। এই লেনের মাধ্যমে এখানের সড়ক এবং ফুটপাত হকারমুক্ত করাও ছিলো সিসিকের আরেকটি উদ্দেশ্য।
কিন্তু মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে হঠাৎ গুড়িয়ে দেওয়া হলো সেই রিকশা লেনের জন্য স্থাপন করা রাস্তার গার্ড ওয়াল। ফলে নগরভবন, সিটি সুপার মার্কেট ও সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডাকঘরের সামনে সাত মাস আগে তৈরি করা সেই লেন এখন আর নেই। তবে কী কারণে হঠাৎ সেই লেন সরিয়ে ফেলা হলো- সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য জানা যায়নি মধ্যরাত হওয়ার কারণে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডাকঘরের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সিসিকের তৈরি করা সেই রিকশা লেনের গার্ড ওয়াল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙছেন কয়েকজন শ্রমিক। আর ভাঙা ইট সিসিকের ট্রাকে তুলে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। শ্রমিকরা জানান, সিসিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তারা এ গার্ড ওয়াল ভাঙছেন।
নগরভবন, সিটি সুপার মার্কেট ও সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডাকঘরের সামনের ফুটপাত এবং রাস্তা থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের কিছুতেই যেন সরাতে পারছিলেন না সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিদিনই অভিযান, প্রতিদিনই পুলিশ-সিসিক কর্মী এবং হকারদের মধ্যে চলছিলো লুকোচুরি খেলা। এ সড়ক পুরোপুরি দখলমুক্ত করতে এবং এখানের যানজট কমাতে গত বছরের জুলাই মাসের প্রথম দিকে সিসিক মেয়র আরিফ নেন ভিন্ন এক উদ্যোগ। নগরভবনের সামনে থেকে লালদিঘীর পাড় রাস্তায় প্রবেশের মুখ পর্যন্ত সড়কের (ফুটপাতের দিকের) পাশ দিয়ে দেড় ফুট উচ্চতার গার্ড ওয়াল স্থাপন করে আলাদা লেন তৈরি করে সিসিক। গার্ড ওয়াল স্থাপন শেষে ১৯ জুলাই লেনটি চালু করা হয়। এসময় এর ভেতর দিয়ে রিকাশা, ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল শুরু করে। আর অন্যান্য গাড়ি চলাচল করে মূল সড়ক দিয়ে। লেনের ভেতরে সাড়ে ৪ফুট জায়গা রাখা হয়।
রিকশা-ভ্যান যাতে লেনের ভেতর দিয়ে চলাচল করে সেজন্য দু-মাথায় কর্মী নিয়োজিত রাখে সিসিক। যে সকল রিকশা লেনের ভেতর দিয়ে যেতে আগ্রহী নয় সেগুলোকে ভেতর দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য করেন সিসিক কর্মীরা।
ওই সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর সিলেটভিউ-কে বলেন, নগরভবন, সিটি সুপার মার্কেট ও সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডাকঘরের সামনের রাস্তার অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল করে হকাররা মালামাল বিক্রি করেন। ফলে এ স্থানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে। নগরবাসী এবং এ সড়কে চলাচলকারীদের পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি। এ স্থান হকারমুক্ত করে মানুষের ভোগান্তি দূর করতে নগরভবনের সামনে থেকে লালদিঘীর পাড় রাস্তায় প্রবেশের মুখ পর্যন্ত সড়কের (ফুটপাতের দিকের) পাশ দিয়ে ১০ ইঞ্চি পুরো দেড় ফুট উচ্চতার গার্ড ওয়াল স্থাপন করে লেন তৈরি করেছে সিসিক। লেনের ভেতরে সাড়ে ৪ফুট জায়গা রাখা হয়েছে। এ লেন দিয়ে অনায়াসে রিকাশা, ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল করবে। আর অন্যান্য গাড়িগুলো চলাচল করবে মূল সড়ক দিয়ে।
কিন্তু মেয়র আরিফেরে এ কৌশল বেশিদিন কাজ করেনি। কিছুদিনের মধ্যেই সেই লেনসহ রাস্তার অর্ধেকজুড়ে আবার ফিরে আসেন হকাররা। ফলে এ স্থানে আগের চাইতে আরও বেশি যানজট আর বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সিসিক কর্মীদের রেখেও রিকশা-ভ্যান মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। সর্বোপরি একদিনের জন্যও নগরভবন, সিটি সুপার মার্কেট ও সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডাকঘরের সামনের ফুটপাত এবং রাস্তা থেকে সরানো যায়নি হকারদের। এই অবস্থায় ৭ মাস পর সরিয়ে ফেলা হলো সিসিকের ‘অপরিকল্পিত’ সেই রিকশা লেন।
সিলেটভিউ২৪ডিটকম / জুনেদ / শাহিন / ডালিম




