মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বলা হয় বহু ধর্ম, বহু বর্ণের দেশ। এই দেশটিতে দুদিন পর অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ উৎসবকে ঘিরে যেন কোনো কিছুর কমতি নেই। উৎসব উদযাপনে মিশিগান রাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ঈদের শেষ মূহুর্তে কেনাকাটায় দারুণ ব্যস্ত। ঈদকে ঘিরে মিশিগানের দুইটি শহরে ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল একাধিক ঈদ মেলা।
নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন বায়োলেটসের উদ্যোগে প্রথমে মেলা অনুষ্ঠিত হয় ওয়ারেন শহরের মৃধা বেঙ্গলি কালচারাল সেন্টারে। এরপর হ্যামট্রামিক শহরে গেইটস অব কলাম্বাসে অনুষ্ঠিত হয় ইউনিক ঈদ মেলা। এর কিছুদিন পর বাংলাদেশ এভিনিউয়ের কাবাব হাউজে অনুষ্ঠিত হয় ওয়াসীম ঈদ মেলা। সর্বশেষ ওয়ারেন শহরে অনুষ্ঠিত হলো চান্দ রাত ঈদ মেলা।
মেলাতে স্থান পেয়েছে মেয়েদের রং বেরং এর শাড়ি, বিভিন্ন রকমের পোশাক, জুয়েলারি সামগ্রী, হেনা-মেহেদীসহ আকর্ষণীয় বিভিন্ন ধরনের স্টল। এসব স্টলে বাংলাদেশসহ ভারত ও পাকিস্তানের তৈরি পোশাকও পাওয়া গেছে।
এসব মেলার মাধ্যমে এক জায়গা থেকে পছন্দের পোশাকসহ সাজসজ্জার সব কিছুই কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারা। এদিকে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় সন্তুষ্ট বিক্রেতারাও।
চান্দ রাত মেলায় ধুম পড়ে জুয়েলারি কেনায়। চাহিদা ছিল কাঁচের চুড়ির। এছাড়া রয়েছে ইমিটেশনের বাহারি ডিজাইনের চুড়ি, ব্রেসলেট, লকেট, পায়েলসহ নানা গয়না। প্রতিটি জুয়েলারির স্টলে নারীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
জনি ও হেলাল দম্পতির স্টলে সিরামিকের জিনিসপত্রের পাশাপাশি নজর কেড়েছে নকশি কাঁথা।
পাপড়ি কালেকশনের এমডি ফারজানা চৌধুরী পাপড়ি বলেন, ক্রেতারা বিভিন্ন মেলা কিংবা শপিং মল থেকে পোশাক আগেই কিনে নিয়েছেন। অনেকে অনলাইনেও ঈদ কেনাকাটা সেরেছেন। এখন মেলা থেকে পছন্দের পোশাকের সাথে মিলিয়ে জুয়েলারি কিনছেন। এজন্যই জুয়েলারির স্টলে বেশি ভিড়।
রুমকি’স কালেকশনের স্বত্ত্বাধিকারী জানালেন, নারীদের শাড়ি কাপড়, সালোয়ার কামিজের পাশাপাশি ছেলেদের পাঞ্জাবি ও ফতুয়ার নতুন নতুন কালেকশন নিয়ে এসেছেন। বেচাকেনা ভালো হয়েছে।
কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সুমন কবির বলেন, করোনাকালীন গত দুবছরে সরাসরি কেনাকাটা থেকে বঞ্চিত ছিলেন অনেকে। এ বছর সেটা হয়নি। মেলায় এসে কিংবা শপিং মল থেকে পরিবারের সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী কেনাকাটা করেছেন। এছাড়া দীর্ঘ দুবছর পর নতুন করে মেলা শুরু হওয়ায় কমিউনিটির অনেকই কুশল বিনিময় করছেন একে অপরের সঙ্গে। এতে খুব ভালো লাগছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/টিআরএস/এসডি-২৭




