ছবি : আহমদ শাহীন

শাহেদ আলম নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী মঙ্গলবার (১০ মে) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি রেস্টুরেন্টে যান নাশতা করতে। রেস্টুরেন্টে ঢুকে পরোটা-ভাজি নিয়ে আসার কথা বলেন। নাশতা শেষে টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে একটু খটকা লাগে, মনে হয় টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে তার কাছ থেকে।

বিষয়টি ওই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারের নজরে নিয়ে আসলে তিনি ওই বেসরকারি চাকরিজীবীকে বলেন, ‘ভাই, টাকা একটু বেশিই নিতে হচ্ছে। কারণ- এখন ৫-৬ টাকার পরোটার দিন শেষ। এখন পরোটা ৮-১০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম তো বাড়ছেই, সঙ্গে আটা-ময়দার দামও বেড়ে গেছে। তাই আমরা আপাতত ৮টা টাকা দামে পরোটার পিস বিক্রি করছি। কয়েকদিন পর ১০ টাকা ছাড়া আর বিক্রি করা যাবে না।’


অথচ রোজার আগেও এই রেস্টুরেন্টে পরোটা বিক্রি হতো ৬ টাকায়। কিন্তু আকার, আকৃতি, পরিমাণ সবই আগের মতো আছে, শুধু বেড়ে গেছে পরোটার দাম। শুধু জিন্দাবাজারের ওই রেস্টুরেন্টই নয়, নগরীর প্রায় সকল রেস্টুরেন্টেই পরোটার দাম বেড়েছে বলে জানা গেছে। বলতে গেলে- সিলেট থেকে হারিয়ে গেছে ৫ টাকা দামের পরোটা।

রেস্টুরেন্টে আসা কাস্টমাররা বলছেন, হঠাৎ করেই সিলেট শহরের রেস্টুরেন্টগুলোতে পরোটা ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮-১০ টাকা করা হয়েছে। সিলেটের কোথাও আর ৫ টাকার পরোটা পাওয়া যায় না। কিছুদিনের ব্যবধানে পরোটার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেল।

এর কারণ হিসেবে হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিকরা বলছেন- ময়দা, তেল, গ্যাসসহ সব ধরনের উপকরণ বা কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির জন্য বাধ্য হয়ে পরোটার দাম বাড়ানো হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সাধারণ মানুষের বক্তব্য হচ্ছে- দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন আয়ের মানুষ খুব কষ্টে আছে। সব কিছুর দামই বাড়তি। এমনকি হোটেলে খেতে যেয়েও একজন মানুষকে ৫ টাকার পরোটা ৮-১০ টাকায় কিনে খেতে হচ্ছে। তেল, ময়দা এসবের দাম বৃদ্ধির কারণে ভার এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের কাঁধে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম