গত দুই বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে পুঁজি করে যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়ানৈরাজ্য চালিয়েছেন সিলেট মহানগরীর সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চালকরা।
এবার আরেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভয়াবহ বন্যার মাঝেও তারা রেহাই দিচ্ছেন না যাত্রীদের। ১০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন রিকশা চালকরা। আর সিএনজি অটোরিকশা চালকরা ৫ টাকার ভাড়ার জায়গায়ও যাত্রীদের কাছ থেকে জোর করে আদায় করছেন ১০-১৫ টাকা।
এমন হয়রানির শিকার হয়ে প্রতিদিনই নগরীতে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চালকদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা, ঝগড়া হচ্ছে যাত্রীদের। কিন্তু চালকদের কাছে যেন জিম্মি যাত্রী সাধারণ। সম্মিলিত প্রতিবাদ বা প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এ অটোরিকশা এবং রিকশা চালকরা প্রতিদিন যাত্রীদের ‘পকেট কাটছেন’ নির্বিচারে, করছেন হয়রানি- লাঞ্ছনা।
গত ৮ দিনের ভারি বর্ষণ আর ভারতের পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা ঢলে বন্যা তৈরি হয়েছে সিলেট মহানগরীর নিচু এবং সুরমা তীরবর্তী এলাকাগুলোতে। গত শুক্রবার থেকে নগরীতে জলাবদ্ধতা তৈরির পর সােমবার বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর উপচে পানি প্রবেশ শুরু হয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত এ অবস্থা বিদ্যমান। ফলে নগরীর ছড়ারপাড়, মাছিমপুর, কালিঘাট, তােপখানা, কাজীর বাজার, শেখঘাট, শাহজালাল উপশহর, তেররতন, মুমিনখলা, খােজারখলা, ঝালােপাড়াসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। যান চলাচল করছে না অনেক রাস্তায়।
এছাড়া ড্রেনেজ সিস্টেম ভেঙে পড়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ রয়েছে। এতে নগরীর তালতলা, দাড়িয়াপাড়া, ভাতালিয়া, সােবহানীঘাট, যতরপুর, সােনারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মানুষের বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও অফিসে পানি উঠে গেছে। ফলে পানিবন্দী নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে যাদের বাসা বহুতল ভবনের নিচতলায় তারা পড়েছেন মারাত্মক বিপাকে। অনেকে বাসাবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাসায় কিংবা গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন।
এমন চরম দুর্ভোগের মাঝে সিলেট মহানগরীতে যেন ডাকাতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চালকরা। ১০ টাকার ভাড়া দাবি করছেন ৫০ টাকা পর্যন্ত। চালকদের দাবি অনুযায়ী যাত্রীরা টাকা না দিলে অনেক সময় শারিরীক লাঞ্ছনার শিকারও হচ্ছেন। আর ভাড়া নিয়ে চালকা-যাত্রীদের মাঝে তো বাকবিতন্ডা-ঝগড়া নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) দুপুরের ঘটনা। সিলেট শাহজালাল উপশহর সড়কের মুখে রোজভিউ'র সামন থেকে শিবগঞ্জ পয়েন্ট হয়ে মিরাবাজার আসার জন্য সুমন পারভেজ নামের এক চাকরিজীবী একটি রিকশায় উঠেলে সেই রিকশা চালক তার কাছে ২৫০ টাকা দাবি করেন। এসময় হতভম্ব হয়ে সুমন পারভেজ রিকশা চালকের কাছে এত বেশি ভাড়া চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে চালক রাগত স্বরে বলেন- ভাই, পোষাইলে যান। নাইলে বাদ দেন। কী বন্যা করছে সিলেটে। এসময় আমাদের দু-চার পয়সা বেশি না নিলে কি চলে?
শুধু সুমন পারভেজই নন- এমন ঘটনার শিকার এখন প্রায় সব যাত্রী। এ বিষয়ে কারও নজরদারি নেই বলে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কয়েক বছর আগে সিলেট সিটি করপোরেশন কিলোমিটার প্রতি রিকশা ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও একদিনের জন্য সেই তালিকা অনুযায়ী ভাড়া নেননি চালকরা। সিসিকেরও যেন তালিকা করে দিয়েই দায়িত্ব শেষ। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হয়রানির শিকার অনেক যাত্রী।
বুধবার (১৮ মে) নগরীর বন্দরবাজার থেকে দক্ষিণ সুরমার ওভারব্রিজে যাওয়ার জন্য ব্যবসায়ী জুনেদ আহমদ অটোরিকশায় ওঠতে গেলে চালক বলেন- ভাড়া দিতে হবে ২৫ টাকা। আবার যাত্রীও নেওয়া হবে ৫ জন। এসময় ‘১০ টাকার জায়গায় ২৫ কেন’ জানতে চাইলে ওই চালক জুনেদকে বলেন, সোবহানীঘাটে সড়কে বেশ পানি। সেই গাড়ির লাইলেন্সারে ঢুকে গেলে সে পানি বের করতে বেশ সময় লাগে। তাই একটু বেশি ভাড়াই নিতে হয়।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের সিলেটভিউ-কে বলেন, এ বিষয়টি সরাসরি পুলিশের দেখার নয়। তবু কেউ যদি অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে তবে সেটি আইন পরিপন্থী। আর কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বিষয়টি আমি এখনই সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবগত করছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম/এসডি-৩০




