মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের পুরাতন ঘরের মালামাল রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকার হাজার হাজার টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ সম্পদটি কার দায়িত্ব রয়েছে বলে রয়েছে আলোচনা সমালোচনা।
এব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য উর্দ্ধতন র্কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন শরীফপুর ইউনিয়নের বর্তমান নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ২০১২ সালের ডিসেম্বরের ২১ তারিখ ততকালিন জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী শরীফপুর ইউনিয়ন অফিসের পাশে চাতলাপুর রেষ্ট হাউজের একটি ভবন উদ্বোধন করেন। সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে শতবর্ষী একটি বটগাছ ও অপুর্ব সুন্দর মনুনদী। এ মনুনদীর তীরে ছিল ইউনিয়ন অফিস, নামাজের জন্য একটি মসজিদ ও একটি রেষ্ট হাউজ।
১০ বছর পূর্বে শরীফপুর ইউনিয়নের নতুন ভবন নির্মিত হওয়ার পর পুরাতন ঘর রেখে নতুন ভবনে আশা হয়। এরপর পুরনো ঘর ও রেষ্ট হাউজ দীর্ঘকাল যাবৎ পরিত্যক্ত ঘোষণা ও ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। এ জন্য ঘরের দরজা, জানালা, গ্রীল, আসবাবপত্র, উপরে ছাউনির টিনসহ লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল সেখানে অরক্ষিতই রয়েছে। এক শ্রেনীর অসাধু লোকদের যোগসাজসে এলাকার চোর-ছ্যাচড়া এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিবর্গ দিনের পর দিন ধরে গোপনে ও রাতের আঁধারে এ ঘরের মালামাল চুরি করে নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চুরির কারবার চলে আসলেও তা প্রতিহত করার তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে হাজার হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।
এভাবে চলতে থাকলে অন্যান্য মালামাল ক্রমে ক্রমে উধাও হওয়ার সম্ভাবনা বিরাজ করছে। তাছাড়া অরক্ষিত ও নিরাপদ জায়গা হিসাবে ঘরটি বিভিন্ন কক্ষ অসামাজিক কর্মকান্ড ও মাদকসেবীদের অভয়রান্য হিসাবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া মনুনদী পাশে থাকায় এখানকার গাছগুলো কেটে নদী পথে পাচার করা হচ্ছে। পরিত্যাক্ত ঘরে অসামাজিক কর্মকান্ড ও মাদকসেবীদের কারণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন চিনু জানান, ইউনিয়নের নতুন ভবন হওয়ার পর আগের অফিসসহ রেষ্ট হাউজ ও অন্যান্য ঘরের দায়িত্ব তখনকার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুরানো ঘরেগুলো সংস্কার করে পূনরায় চালু করার জন্য বর্তমান চেয়ারম্যানসহ সরকারে অর্ধতন কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।
স্থানীয় ১১নং শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তান আমলে ইউনিয়নের সূচনায় এই ঘর নির্মান করা হয়। এখানে ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় সরকারে বিভিন্ন কর্মকান্ড চলছে। বর্তমানে এই পরিত্যক্ত স্থাপনা থেকে দরজা, জানালা, ঘরের টিনসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হচ্ছে। একটি শতবর্ষী বট গাছ এটাও ডাল কাটা শুরু করছে একদল গাছ চুর।
তিনি আরও বলেন, সরকারে নিতিমালা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদ এগুলো রক্ষনাবেক্ষন করার দরকার ছিল। কিন্তু কেউ এ বিষয়টি দেখেনি। তখন এ স্থাপনা লিজ না দেওয়ায় রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। এখন এ স্থাপনাটি লিজ বা ইউনিয়নের তত্তাবোধানে দিলে সংস্কার করে গাছ গাছালী স্থাপন করলে যেমন সরকার পাবে রাজস্ব তেমনী স্থানীয়ভাবে লোকজন লাভবান হবেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে এনে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে উদার্থ আহবান জানান ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/জেএ/এসডি-০১




