পুনাকের উদ্যোগে জৈন্তাপুর উপজেলা চিকনাগুল ইউনিয়নে সাতজনি গ্রামের জান্নাত আক্তার রিয়ার কৃত্রিম পা সংযোজন করা হয়েছে।

 


৪ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারিয়েছিল ৮ বছরের জান্নাত আক্তার। দিনমজুর বাবা সবকিছু হারিয়ে মেয়েকে সারিয়ে তুললেও হাঁটতে পারছিল না শিশুটি। আকুতি ছিল-যদি কৃত্রিম পা দিয়েও হাঁটা যেত। পুনাকের সহায়তায় জান্নাতের সেই আশা পূরণ হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা তার কৃত্রিম পা লাগানোর ব্যবস্থা করেন। ছোট্ট শিশুটি এখন হাঁটতে পারছে।

 

সোমবার (১৩ জুন) ছিল জান্নাতের জন্য অন্যরকম দিন, প্রায় ২৫ দিন ধরে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক অ্যান্ড পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) বিভিন্ন পরিক্ষা নিরীক্ষা শেষে শিশু ওয়ার্ডে এ দিন জান্নাত দুই পায়ে প্রিয় লাল রঙের জুতা পরেছে। যা সে ভুলতেই বসেছিল। দৌঁড়াদৌঁড়ি করেছে নিজের মতো করে, ক্র্যাচ ছাড়াই। আশার আলো আর প্রশান্তিতে ভরা দুই চোখ তখন জ্বলজ্বল করছিল।

 

সোমবার দুপুরে হাসপাতালে জান্নাতকে দেখতে যান জীশান মীর্জা। তিনি মেয়েটির ওয়ার্ডে যেতেই দূর থেকে শিশুটি দৌঁড়ে ছুটে আসে। পুনাক সভানেত্রীও তাকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন, কোলে তুলে নেন। আনন্দঘন এ মুহূর্তে তাঁর অশ্রুসজল হয়ে উঠে, তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের। কারণ তার কারণেই ছোট্ট শিশুটি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেল।

 

জীশান মীর্জা বলেন, শিশু জান্নাত কৃত্রিম পা হলেও নিজের পায়ে হাঁটতে চেয়েছিল, আজ তার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মেয়েটি কৃত্রিম পায়ে হাঁটতে পারছে, এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।

 

এ সময়ে তিনি জান্নাতের চিকিৎসায় জড়িত হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

পুনাকের স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. প্রথমা রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি রখফার সুলতানা খানম সহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ নভেম্বর জান্নাত আক্তার রিয়ার ছবি ও ভিডিও চিত্র বিভিন্ন অনলাইন ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা গুলোতে জান্নাতের কৃত্রিম পা লাগাতে সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান করা হয়েছিল। জৈন্তাপুর উপজেলাসহ দেশবিদেশ অবস্থানরত ও বিশেষ করে চিকনাগুল প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ আর্থিক সহায়তা করে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত শিশুটির এই আকুতি দেখে সাড়া দেন পুনাক সভানেত্রী। তিনি তার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি মেয়েটির খোঁজ-খবর নেন, তার চিকিৎসার বিষয়ে পঙ্গু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের পরামর্শে জান্নাতকে ভর্তির ব্যবস্থাও করেন পুনাক সভানেত্রী। শিশুটির স্বপ্ন পূরণের সবকিছুতেই পাশে থাকেন তিনি।

 

জান্নাতের পিতা কয়েছ আহমদ বলেন, আমার মেয়ে আবার নতুন করে জীবন পেয়েছে তার স্বপ্নপুরণ হয়েছে। সে অন্য বাচ্চাদের মতো আবার স্কুল মাদ্রাসায় যেতে পারবে আমাদের পরিবারের মুখের হাসি ফুটেছে দেশবিদেশ হতে যারা বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং বিশেষ করে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মীর্জা ম্যাডামের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি সকলের কাছে চীর কৃতজ্ঞ। ১৪ জুন (আজ) রাতেই জান্নাতকে নিয়ে বাড়ি ফিরবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরকেএস/এসডি-৪০