ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় দফায় বুধবার (১৫ জুন) থেকে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে এ দুই জেলার অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন উপজেলায় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা নেওয়ার নির্ধারিত অনেক কেন্দ্রেও পানি ঢুকে পড়েছে।

 


যত সময় যাচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে পানি, তলিয়ে গেছে অনেক রাস্তা-ঘাট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মানুষ ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে।

এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আসন্ন এসএসসি শিক্ষার্থীরা। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগও নেই। বন্যার পানিতে অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র ডুবে যাওয়ায় সেখানে পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কর্তৃপক্ষও।

 

তবে জেলা প্রশাসন বলছে- প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সিলেটে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

আগামী রোববার (১৯ জুন) থেকে সারা দেশের ন্যায় সিলেটে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু সিলেটে ফের বন্যা দেখা দেওয়ায় পেছানোর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

 

সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের অধীন থাকা চার জেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে বন্যাকবলিত জেলা সিলেটে ৪৩ হাজার ৮৪৪ জন ও সুনামগঞ্জে ২৩ হাজার ৭৫২ জন পরীক্ষার্থী আছে। ৪ জেলায় ১৪৯টি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৫৯টি ও সুনামগঞ্জে ৩৩টি পরীক্ষাকেন্দ্র আছে। তবে বন্যা পরিস্থিতিতে কী পরিমাণ পরীক্ষাকেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে কিংবা কতসংখ্যক পরীক্ষার্থী পানিবন্দী আছে সে তথ্য শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।

 

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে জানা গেছে, সিলেট নগরীসহ জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও সিলেট সদর উপজেলা এবং সুনামগঞ্জের সদর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার বেশির ভাগ বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এসব এলাকার বেশির ভাগ পরীক্ষাকেন্দ্র বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

 

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কদমতলি এলাকার বাসিন্দা এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী মিজান আহমদ জানান, তাদের বাসায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাঁটুপানি। অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে অনেক বইপত্রও ভিজে গেছে। ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন তারা। ফলে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে তিনি বেশ দুশ্চিন্তায় আছেন।

 

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সিলেটভিউ’র নিজস্ব প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উপজেলার সবচেয়ে বড় পরীক্ষাকেন্দ্র থানা সদর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে এখন হাঁটুপানি। এ ছাড়া উপজেলায় যে কয়টি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, প্রায় সব কটিতে পানি উঠেছে। উপজেলার ৯০ শতাংশ বাড়িঘরে পানি। এ অবস্থায় এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে পরীক্ষা পেছানো উচিত।

 

জানা গেছে, যেসব এলাকায় পানি উঠেছে- সেখানে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এসএসসি পরীক্ষার্থী পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুণ চন্দ্র পাল এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ‘পরীক্ষা আয়োজনের জন্য বোর্ড শতভাগ প্রস্তুত। তবে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে, তাই অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবগত করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিকালে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত ‘জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি’র জরুরি সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

 

সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, শুধু কোম্পানীগঞ্জে কয়েকটি কেন্দ্রে পানি প্রবেশের খবর আমরা পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের আমরা নির্দেশ দিয়েছি- অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। আমরা সিলেটে এসএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে নিতে চাচ্ছি।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম/ এসডি-৩৪