ছবি: ফাইল ছবি।
সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত তিন মাসে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৭ কোটি টাকার বেশি ভারতীয় অবৈধ পণ্য ও বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১০ হাজারের বেশি ভারতীয় মদ এবং ২ হাজার ২৬০টি গরু-মহিষ।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ৪৮-বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবির অধিনায়ক বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালানের রুট পরিবর্তনের পাশাপাশি মব ঠেকানো বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী ট্রাক আটক করার পর একটি দল মব সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে ট্রাক ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় তারা সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে।’
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মো. নাজমুল হক বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে অনেকে অবৈধ পণ্য ও কার্যক্রমকে বৈধ করার চেষ্টা করছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেমন হামলার শিকার হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষও দুর্ভোগে পড়ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা বিজিবির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’
বিজিবি সূত্র জানায়, গত তিন মাসে সিলেট সীমান্তে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৫৭ কোটি টাকার বেশি ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি ভারতীয় মদ এবং ২ হাজার ২৬০টি গরু-মহিষ রয়েছে। এসব অভিযানে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ও রবিবার (১৬ আগস্ট) দুই দিন সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ৪৮ বিজিবি। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় জিরা, চা পাতা, ফুচকা, শাড়ি, কম্বল, মদ ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে দুই দিনের অভিযানে জব্দ করা পণ্যগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক মো. নাজমুল হক জানান, ‘সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রমের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তৎপরতা ও আভিযানিক কার্যক্রম সর্বাত্মকভাবে অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা চোরাচালান পণ্যের বিষয়ে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-১২




