বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইলাশপুর -মানিককোনা সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রায় এক মাস সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল ফেঞ্চুগঞ্জ উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নে, উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ও গোলাপগঞ্জ পর্যন্ত বিশাল জনপদের।
পশ্চিম মল্লিকপুর ও ইলাশপুর ২টা সড়কই ভেঙ্গে যাওয়ায় সিলেট জেলা ও ফেঞ্চুগঞ্জ সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল অন্তত ২০টি গ্রামের।মহাসড়কের সাথে ইলাশপুর সংযোগ সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের হলেও এটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয় নি তারা। জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে উদ্যোগ নেন উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু ও কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা।স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সড়কটি মেরামত করে বুধবার (২০ জুলাই) দুপুরে যান চলাচল শুরু করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ভাঙ্গা অংশে গাছ ও বাঁশের আড় দিয়ে ভিতরে ইট ও বালুর বস্তা ফেলে সড়কটি চলাচল উপযোগী করা হয়।
সড়কটি মেরামত এলাকায় উৎসবমূখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ দিন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তি পাওয়ার আনন্দে স্বেচ্ছাসেবক, এলাকাবাসী ও যানবাহনে চালকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, দুলাল মিয়া,জাহিদুর রহমান রিপন,শাওন হোসেন শাহজাহান আহমেদরা বলেন, প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু কে যিনি সাহস করে প্রথম উদ্যোগ গ্রহন করায় আমরাও সাহস করে কাজে নেমে কাজটা শেষ করতে পেরে মানুষের সেবা করতে করতে পেরেছি।
এ ব্যাপারে অন্যতম উদ্যোক্তা উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু বলেন, আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামকে যিনি আমাদের উদ্যোগ কে স্বাগত জানিয়ে বিনামূল্যে প্রায় ১শত ট্রলি ইট আমাদের দিয়েছেন। যেটা দিয়ে মেরামতের মূল কাজটা হয়েছে। যারা এই কাজে শ্রম, টাকা ও অন্যান্য ভাবে সহযোগীতা করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোন বিপদে দুর্যোগে এলাকাবাসী সাথে নিয়ে জনকল্যানমূলক কাজ শুরু করলে এটা আটকায় না। নানা ভাবে সহযোগীতা আসতে থাকে।
সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এটা মূলত উনাদের কাজ। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে সত্য একটি এসে ছবি তোলা ছাড়া তারা কোন কাজই করেন নি। আমরা সড়কটি প্রাথমিক মেরামত করেছি এখন সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচিত টেকসই কাজ করা।
এই সড়ক ও ভেঙ্গে যাওয়া পশ্চিম মল্লিকপুর সড়ক মেরামত করতে গড়ে ৫লক্ষ টাকা খরচ হবে। এই টাকাটা স্থানীয়রা, প্রবাসীরা ও উপজেলার দানশীল ব্যক্তিরা দিচ্ছেন। পশ্চিম মল্লিকপুর সড়কটি এলজিইডির। ওখানে কর্তৃপক্ষ কোন উদ্যোগ নেন নি। আমরা পশ্চিম মল্লিকপুর সড়কেও স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছি আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে মেরামত হয়ে যাবে।
সিলেটভিউ২৪ডটতম/ফউ/ইআ




