নাটক সমাজের কথা বলে, সমাজের দর্পণ হিসেবে সত্যকে তুলে ধরে। লেখক, সাহিত্যিক ও নাট্যকাররা সমাজ বাস্তবতার যে চিত্র লিখেছেন সেগুলো মঞ্চস্থ করছেন নাট্য শিল্পীরা। ক্ষুদ্র পরিসরে মঞ্চ নাটক ও নাট্য চর্চা শুরু হলেও বর্তমানে তা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে।
নাটকে সমাজের নানান বৈষম্য তুলে ধরার মাধ্যমে ভেদাভেদ ভুলে সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘নাটকে সাম্যের আন্দোলন, জীবনের ভাষায় মুক্তির অন্বেষণ’ শ্লোগানকে সামনে রেখে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য কর্মীরা প্রতিষ্ঠা করে ‘দিক থিয়েটার’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও তরুণ শিক্ষার্থীদের এ নাট্যসংগঠনটি ‘দিক নাট্যসংঘ’ নামে ১৯৯৯ সালের ১৮ আগস্ট পথচলা শুরু করে। প্রতিষ্ঠাকালীন নবজাতক থেকে এখন যেন সংগঠনটি পরিণত হয়েছে টগবগে তারুণ্যে। নতুন শতাব্দীতে একের পর এক মৌলিক নাটক দিয়ে মঞ্চ মাতাচ্ছে সংগঠনটি। এবছরের ১৮ আগস্ট দুই যুগে পদার্পণ করেছে সংগঠনটি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে নাটকের মাধ্যমে সমাজের বৈষম্য, বিশৃঙ্খলা, শোষণ আর নিপীড়নকে তুলে ধরে তারা দেখিয়েছে মুক্তির দিশা। শাবির সবুজ ক্যাম্পাসের এ নাট্য সংগঠনটির নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অস্তিত্বকে করেছেন মজবুত। নাট্য চর্চার এ কেন্দ্র ভেঙ্গে পরার নয়। নতুনরা আসে, পুরাতনদের দেখিয়ে যাওয়া পথে পুনরায় হাল ধরে তারা। সংগঠনের বৈচিত্রের এই বহমান ধারা যুগের পর যুগ ধরে বইছে। এমনটিই জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা।
এ পর্যন্ত ৩৩টি মৌলিক প্রযোজনার ১০৫টি প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে ‘দিক থিয়েটার’। এর সর্বপ্রথম প্রযোজনা ছিল সমরেশ বসুর ‘আদাব’ গল্পের আলোকে। নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল ১৯৯৯ সালের ১৮ আগস্ট। প্রতিষ্ঠাকালীন দিনের এ গল্পে নাট্যরূপে ছিলেন মান্নান হীরা আর নির্দেশনায় ছিলেন সচ্চিদানন্দ চক্রবর্তী।
এছাড়া পর্যায়ক্রমে সংগঠনটি মঞ্চস্থ করেছে ‘জনৈক ইমাম আলী, শেকল, সালিশ, হাস্য লাস্য ভাস্য, বিবিসাব, মহারাজার ঘুম নাই, কবর, মহাপ্রলয়, গর্ভবতী বর্তমান, নীল ময়ূরের যৌবন, কুশিলব, এবং ইন্দ্রজিৎ, পুটি রামায়ণ, শিখন্ডী কথা’সহ নিপীড়িত ও শত বৈষম্যের শিকার জন-জীবন ফুটে উঠে এমন অনেক নাটক। পাশাপাশি ‘দিক থিয়েটার’ বিভিন্ন সময়ে আয়োজন করছে বহু চ্যারিটি নাটক। এদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ২০ তম প্রযোজনা মাইকেল মধুসুদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’।
এছাড়া সর্বশেষ প্রযোজনায় গত মার্চে মঞ্চনাট্য ‘আভাস’ প্রদর্শন করে তারা। এর মাধ্যমে সমাজের ধনী-গরীব, উঁচু-নিচু ভেদাভেদের বৈষম্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
দিক থিয়েটারের বর্তমান সভাপতি আব্দুল বাসিত সাদাফ বলেন, ‘মহড়াই মূলত থিয়েটারের প্রাণ। নিয়মিত মহড়ার মাধ্যমে আমরা নিজেরা প্রস্তুত হই, নতুন বার্তা নিয়ে মঞ্চে হাজির হই। দীর্ঘ সময় ধরে আমরা মঞ্চে ফিরতে পারিনি। পারিনি নিয়মিত মহড়ায় সবাই একসাথে মিলিত হতে। মহামারীর সময়ে অন্য সবকিছুর মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মত দিক থিয়েটারকেও বিভিন্ন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে গত মার্চে আমরা আবারও মঞ্চে ফিরেছিলাম। এছাড়া নতুন প্রযোজনার প্রদর্শনীর জন্য সংগঠনটি প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
সংগঠনটির উপদেষ্টা পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. জায়েদা শারমিন বলেন, দিকের সদস্যরা নাটক লিখে তারা সেটা মঞ্চস্তও করে। যেগুলো তাদের মৌলিক প্রযোজনা এবং এগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য থাকে। দিকের বেড়ে ওঠা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তারা এখন অনেক ভালো করছে। সবমিলিয়ে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দিক থিয়েটার অন্যতম একটি জায়গা করে নিয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/ইআ-০২




