আসন্ন ২৭তম জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশসহ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা ও পুন:দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক সুরক্ষায় জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন গুলিকে আরো বেশি সোচ্চার হওয়ার আহবান জানানো হয়।

 


মিশরের শারম-আল-শেইখে আসন্ন ৬-১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ২৭তম জলবায়ু সম্মেলনের প্রাক্কালে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনি হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ওশি ফাউন্ডেশন ও ফ্রেডরিক এবার্ট স্টিফটাং (এফইএস) বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনে ওশি’র নির্বাহী পরিচালক আমিনুর রশিদ চৌধুরী এই আহবান জানান।

 

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জাস্ট ট্রানজিশন উদ্যোগ গ্রহণ: ক্ষয়ক্ষতি প্রশমন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে করণীয়” বিষয়ক একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন কালে আমিনুর রশিদ চৌধুরী  আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জাস্ট ট্রানশিজন বিষয়ে কিছু সুপারিশমালা পেশ করে সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, ভৌগলিক অবস্থানগত কারণেসবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আর এক মিটার বৃদ্ধি হলে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন "পরিবেশগত উদ্বাস্তু" বাস্তুচ্যুত হবে এবং জনসংখ্যার একটি বড় অংশের  কর্মক্ষেত্র, জীবিকা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের উপর অকল্পনীয় বিরূপ প্রভাব ফেলবে। মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা  কার্যক্রমের একটি প্রধান অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে জাস্ট ট্রানজিশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য  দক্ষতা উন্নয়নকে অনেক বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনএসডিএ) কে স্কিল  ডেভেলপমেন্ট প্লানে শ্রমিকদের দাবী বিবেচনা ও একীভূত করার জন্য ট্রেড ইউনিয়নগুলির সাথে সংলাপ শুরু করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ন্যায্য রূপান্তরের জন্য সামাজিক সংলাপ, দক্ষতা উন্নয়ন নীতি, পেশাগত স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগগুলি গ্রহণ ও নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

 

শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকায় জলবায়ুর প্রভাব প্রশমন ও জাস্ট ট্রানজিশন প্রতিষ্ঠায় ওশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থানীয় বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন সমূহের এ সংক্রান্ত নীতি, কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেয়ার দাবি করেন। এছাড়া পরিবেশ বিপর্যয় , জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব এবং টেকসই কর্ম সম্পর্কে শ্রমিক ও ইউনিয়ন সদস্যদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য ব্যাপক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচী গ্রহণে বিভিন্ন পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি ও  লবিং করা, ‘জাস্ট ট্র্যানজিশন ' ইস্যুতে সরকার ও মালিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতি-নির্ধারকদের সাথে সংলাপে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়া , মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে যৌথ দরকষাকষি প্রক্রিয়া ও চুক্তিতে গ্রীণ জব ও জাস্ট ট্রানজিশনের মতো বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার অভিযোজন প্রক্রিয়ায় নিজেদের সক্ষমতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমিত কার্বন অর্থনীতির দিকে যাত্রার পথ প্রশস্ত করা, শ্রমিক সংগঠনগুলো ' জাস্ট ট্রানজিশন’ এজেন্ডাকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের জন্য সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও কর্মক্ষেত্র পর্যায়ে সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে একে বিস্তৃতি করার জন্য সুপারিশ করা হয়।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/খলিল/এসডি-২১