বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন লোহিত সাগর উপকূলে সিনাই উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত মিশরীয় পর্যটন-নগরী শারম আল-শেখে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 


মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) ১০তম দিনে লস এন্ড ড্যামেজের অর্থায়ন, মিটিগেশন বা প্রশমন এবং অ্যাডাপটেশন বা অভিযোজনের বিষয়ে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর চরম দরকষাকষি চলছে।

 

অপরদিকে এবারের সম্মেলনে উন্নত রাষ্ট্রগুলো তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের কাছে উন্নয়নশীল বা ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর সমস্যা বা সংকট ততটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। উন্নত রাষ্ট্রগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি (রিনিওবল এনার্জি) বিনিময় এর উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে উন্নত বিশ্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ট্রান্সফারের দিকে বেশি ঝুঁকছে।  উন্নত রাষ্ট্রগুলো এই বিষয়ে বেশি সোচ্চার।

 

নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়টি কিভাবে করা যায় অর্থাৎ গবেষণা বাড়ানো ও কারিগরি উন্নয়নের দিকে তারা বেশি মনোযোগি।

অথচ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতির স্বীকার রাষ্ট্রগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষ করে লস এন্ড ড্যামেজে অর্থায়নের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকেই যাচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, মূলত আমরা পাঁচটি বিষয়ের উপরে জোর দিচ্ছি। এর মধ্যে আজ তিনটি বড় দাবি আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি আগ্রাধিকার পাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে লস এন্ড ডেমেজের অর্থায়ন, প্রশমন ও অভিযোজনের বিষয়টি। আমরা এ তিনটির উপর জোর দিচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা বলতে এলডিসিভূক্ত ৪৬টি দেশ জোরালোভাবে এই তিনটি বিষয়ের উপর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। এছাড়া অগ্রগতি কখন আসবে সেটি এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে সম্মেলনের শেষ দিন পর্যন্ত এই তিনটি বিষয় বাস্তবায়নে উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে চাপ সৃষ্টি করে যাব।

 

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর জন্য গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের যে প্রতিশ্রুতি উন্নত রাষ্ট্রগুলো দিয়েছিল তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। বলা যেতে পারে উন্নত রাষ্ট্রগুলো কথা দিয়ে কথা রাখেনি। ২০২২ সাল পর্যন্ত এই তহবিলে জমা পড়েছে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ডলার জমা দেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও উন্নত রাষ্ট্রগুলো সেটি করেনি।


এর ফলে লস এন্ড ড্যামেজের অর্থায়নের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলো যে দাবি তুলেছে তা এখনো এবারের কপ এর মূল আলোচনায় তেমন ভাবে গুরুত্ব পায়নি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তাদের নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। ফলে অন্যান্য উন্নত রাষ্ট্রগুলো লস এন্ড ড্যামেজের অর্থায়নের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যা ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করেছে।

 

সাবের হোসেন চৌধুরী আরো বলেন, ১০০ মিলিয়ন দেওয়ার কথা ছিল ২০০৯ সালের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী। এই বিষয়ে আজ পর্যন্ত তেমন অগ্রগতি হয়নি। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়া জন কেরি পরিষ্কার বলেছে, যে পরিমাণ অর্থের দরকার, উনত বিশ্বের কাছে সেই পরিমাণ অর্থ নাই।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক বলেন, লস এন্ড ড্যামেজের ফান্ডিং এর ব্যাপারে এখনো একমত হওয়া যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তন জনিতকারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দাবি, এবারের সম্মেলনে এ ব্যাপারে একটা ফ্রেমওয়ার্ক করতে হবে। কিভাবে ফান্ডিং হবে সেটা আগামী দুই বছরের মধ্যে করা যাবে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলো বলছে, এখন নয়,২০২৪ এর মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা হবে।

 

জিয়াউল হক জানান, লস এন্ড ড্যামেজের পাশাপাশি গ্লোবাল মিটিগেশন অ্যাকশন প্ল্যান, মিটিগেশন এবং কার্বণ নিঃসরণ কমানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/খলিল/এসডি-২২